BJP-কর্মীকে নৃশংস খুন, TMC-র সঙ্গে ছক কষেই কি এত বড় কান্ড?

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর থানার অন্তর্গত উত্তর ট্যাঙ্গারবেড়িয়া এলাকায় এক সক্রিয় বিজেপি কর্মীকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহত বিজেপি কর্মীর নাম বাপি প্রামাণিক (৪৫)। পরিবারের জোরালো দাবি, সুপরিকল্পিতভাবে ফোন করে তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তারপর একা পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্বিচারে আক্রমণ চালায় দুষ্কৃতীরা। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি, চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের জেরে পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

নিহতের পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের সরাসরি অভিযোগ, এই খুনের নেপথ্যে রয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত বাপি প্রামাণিক দীর্ঘদিনের একনিষ্ঠ বিজেপি কর্মী ছিলেন। রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকার কারণে এবং দলের আদর্শ বজায় রাখার জন্য তাঁকে অতীতে দীর্ঘ প্রায় দশ বছর ঘরছাড়া থাকতে হয়েছিল। সম্প্রতি পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় তিনি বাড়ি ফিরে এলাকায় একটি ছোট ব্যবসা শুরু করেছিলেন। কিন্তু এর মধ্যেই এই ভয়াবহ পরিণতি নেমে এল। অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এলাকার একটি পুজো কমিটি গঠন ও তার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় স্তরে যে বচসা ও বিরোধ বেঁধেছিল, তার জেরেও এই প্রাণঘাতী আক্রমণ হতে পারে।

তবে এই পুরো ঘটনায় রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। বিরোধীদের একাংশ এবং স্থানীয় সূত্রে মিলছে এক ভিন্ন তথ্য। তাঁদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে শুধু তৃণমূলের হাত রয়েছে এমন নয়, বরং এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে খোদ বিজেপিরই একটি প্রভাবশালী অংশ। এই প্রসঙ্গে সরাসরি আঙুল উঠেছে স্থানীয় এক বিজেপি নেতা সুজন মণ্ডলের দিকে। অভিযোগ উঠছে, দলীয় কোন্দল ও স্থানীয় আধিপত্যের জেরে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে খোদ দলীয় কর্মীকে সরানোর ছক কষেছিলেন ওই বিজেপি নেতাই। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আসার পর পদ্মশিবিরের অন্দরেও শুরু হয়েছে তীব্র গুঞ্জন।

ঘটনার খবর পেয়েই নড়েচড়ে বসেছে বারুইপুর থানার পুলিশ। তবে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে অত্যন্ত মেপে পা ফেলা হচ্ছে এবং সুনির্দিষ্টভাবে এখনই কোনো মন্তব্য করতে চাওয়া হয়নি। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, নিহতের পরিবারের দায়ের করা অভিযোগ এবং পারিপার্শ্বিক সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকার সন্দেহে কয়েকজন সন্দেহভাজনকে আটক করে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই সমস্ত জট কেটে আসল সত্য সামনে আসবে এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *