২৪ ঘন্টায় পুড়ে ছাই ২৫টি গাড়ি! কলকাতার কাছে জনপ্রিয় শোরুমে বিধ্বংসী আগুন, ভয়ে কাঁপাচ্ছে স্থানীয়রা

রাজ্যে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার জেরে ক্রমেই বাড়ছে আতঙ্ক। তারাপীঠের হোটেল এবং কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের মর্মান্তিক ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার শহরতলির এক গাড়ির শোরুমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। রবিবারের এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে প্রায় পঁচিশটি দামি গাড়ি।
রবিবার ভোররাত চারটে থেকে চারটে কুড়ির মধ্যে যশোর রোডের কাছে বাঁকড়ার একটি গাড়ির শোরুমে আচমকাই আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন দাউদাউ করে ছড়িয়ে পড়ে দোতলায়। শোরুমের ভেতরে প্রচুর পরিমাণে দাহ্য পদার্থ মজুত থাকার কারণে আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। খবর পেয়ে প্রথমে দমকলের পাঁচটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও পরিস্থিতি সামাল দিতে পরে আরও তিনটি ইঞ্জিন আনা হয়। মোট আটটি ইঞ্জিনের দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, আগুনে শোরুমের ভেতরে থাকা অন্তত ২৫টি গাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। যার মধ্যে অনেক গাড়িই সার্ভিসিংয়ের জন্য সেখানে রাখা হয়েছিল। এমনকি শোরুমের পাশের খালি জমিতে থাকা একটি ট্রাভেলার বাসও এই ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক তদন্তে দমকল কর্মীদের অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই এই বিপত্তি ঘটেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এর আগেও ওই শোরুমে একবার সামান্য আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছিল, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। কিন্তু একের পর এক এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি কেন ঘটছে, তা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে শোরুমে যথাযথ অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত শুরু করেছে দমকল বিভাগ। ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ফরেনসিক পরীক্ষার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।