“দল থেকে পেলাম না কিছুই!”-প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে নিয়ে কেন বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন ‘শ্রীময়ী’?

ইন্দ্রাণী হালদার বাংলা বিনোদন জগতের এক অত্যন্ত পরিচিত এবং প্রভাবশালী মুখ। কর্মাশিয়াল সিনেমা থেকে শুরু করে সমান্তরাল ধারা—সব জায়গাতেই তাঁর অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখেছেন তিনি। বড় পর্দার পাশাপাশি ছোটপর্দাতেও ইন্দ্রাণী সমানভাবে নিজের জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছেন। বিশেষ করে তাঁর অভিনীত ‘শ্রীময়ী’ এবং ‘গোয়েন্দা গিন্নি’ ধারাবাহিক দুটি দর্শকদের মনে আজও গভীরভাবে দাগ কেটে আছে। আজও বহু মানুষ রাস্তায় তাঁকে দেখলেই ভালোবেসে ‘শ্রীময়ী’ বলে ডাকেন। তবে সেই জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা সত্ত্বেও বেশ কয়েক বছর ধরে ছোটপর্দ তথা সার্বিক বিনোদন জগত থেকে খানিক দূরত্ব বজায় রেখেই চলছেন এই অভিনেত্রী। রাজনৈতিক মহলে বরাবরই তৃণমূল কংগ্রেস ঘনিষ্ঠ বলে তাঁর পরিচিতি রয়েছে। তবে সম্প্রতি একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি সরাসরি প্রাক্তন সরকার এবং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কিছু বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন, যা নিয়ে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতি ও টলিপাড়ায় চর্চা শুরু হয়েছে।

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল এবং রাজনৈতিক সমীকরণ বদলানোর পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস কিংবা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সান্নিধ্য থেকে বহু তারকাকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যেতে দেখা গেছে। অতীতে যাঁরা প্রকাশ্যে দলনেত্রীর স্তুতি গেয়েছিলেন, পরবর্তী সময়ে তাঁদের অনেকের সুরই বদলে গিয়েছে। এবার সেই দীর্ঘ তালিকায় নতুন নাম হিসেবে যুক্ত হলেন স্বয়ং ইন্দ্রাণী হালদার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তাঁর গলায় স্পষ্টতই একধরনের অভিমান ও ক্ষোভের সুর শোনা যায়। অভিনেত্রী সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, তাঁদের তৎকালীন সরকারের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের ভীষণ ভালোবাসতেন। মুখ্যমন্ত্রী নিজে ভালোবেসে তাঁকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাতেন, আর তিনিও সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে উপস্থিত হতেন। এমনকী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশেষ উদ্যোগে তাঁকে স্টার ক্যাম্পেইনার হিসেবেও ময়দানে নামানো হয়েছিল।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অভিনেত্রী আরও জানান যে, তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন মিটিং এবং মিছিলে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি শুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝেও সময় বের করে ছুটে যেতেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুরোধে তিনি একাধিকবার প্রচারের কাজও করেছেন। দিদির যেকোনো অনুষ্ঠানে তিনি সবসময় নিমন্ত্রিত হতেন এবং সেখানে উপস্থিত থাকতেন। কিন্তু এত কিছুর পরেও দল বা সরকারের তরফ থেকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে তেমন কোনো প্রাপ্তি বা স্বীকৃতি পাননি বলে অভিযোগ করেন। তাঁর জুনিয়র বহু অভিনেত্রী পরবর্তীতে সাংসদ বা বিধায়ক পদ পেলেও, তিনি পাননি। অভিনেত্রী মনে করেন যে দলনেত্রী চাইলে তাঁকে সেই দায়িত্ব দিতে পারতেন, কিন্তু কোনো কারণে তা হয়ে ওঠেনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে একসময় মুখে আশ্বস্ত করেছিলেন যে তাঁকে সাংসদ বা বিধায়ক পদে প্রার্থী করা হবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। যদিও এই বিষয়ে তিনি সরাসরি দলনেত্রীকে কোনো দোষ দিতে নারাজ। এর পাশাপাশি ইন্দ্রাণী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় এও উল্লেখ করেছেন যে তিনি কখনোই তৃণমূলের হয়ে বিনা পারিশ্রমিকে প্রচার করতে যাননি, বরং কাজের বিনিময়ে নির্দিষ্ট টাকা নিয়েই তিনি প্রচারের কাজ করেছেন। নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, যেভাবে সাধারণ মানুষ বা শিল্পীরা বিভিন্ন বাণিজ্যিক অনুষ্ঠান বা মাচা শো করতে গিয়ে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক নেন, এটিও ঠিক তেমনই একটি পেশাদার চুক্তি ছিল।

রাজনৈতিক প্রচারের অভিজ্ঞতা নিয়ে বলতে গিয়ে ইন্দ্রাণী জানান যে, তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে তিনি যখন একেবারে শেষ দফায় নির্বাচনে প্রচার করতে মাঠে নেমেছিলেন, তখন তিনি নিজেই বুঝতে পেরেছিলেন যে তাঁকে যে সমস্ত অঞ্চলে প্রচারের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সেখানে আসলে দল জয়ী হবে না। ওই নির্দিষ্ট এলাকাগুলিতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট বুঝতে পেরেছিলেন যে সেখানে শাসকদলের পক্ষে হাওয়া নেই, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির পক্ষে জোয়ার বইছে। রাজনৈতিক ময়দানের এই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি অভিনেত্রী জানান যে তিনি খুব শীঘ্রই আবার অভিনব কায়দায় কাজে ফিরতে চান। রাজনীতির ময়দান বা অন্যান্য বিতর্ক দূরে সরিয়ে রেখে তিনি এখন সম্পূর্ণভাবে অভিনয়েই মন দিতে চান এবং নিজের ভালোবাসার জায়গায় ফিরে আসতে মুখিয়ে আছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *