কেন সবসময় অমাবস্যাতেই হয় সূর্যগ্রহণ আর পূর্ণিমাতেই বা কেন লাগে চন্দ্রগ্রহণ? জানুন আসল কারণ

আকাশ গ্রহণ একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও বিস্ময়কর জ্যোতির্বিজ্ঞানের ঘটনা। সূর্যগ্রহণ হোক কিংবা চন্দ্রগ্রহণ—এগুলির ঘটার পেছনে সূর্য, পৃথিবী এবং চাঁদের একটি নির্দিষ্ট ও নিখুঁত অবস্থানে আসা আবশ্যক। জ্যোতির্বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, অমাবস্যার দিনেই কেবল সূর্যগ্রহণ এবং পূর্ণিমার দিনেই চন্দ্রগ্রহণ হওয়া সম্ভব। কিন্তু আপনার কি কখনো মনে প্রশ্ন জেগেছে, কেন শুধুমাত্র এই বিশেষ তিথিগুলোকেই গ্রহণের জন্য বেছে নেয় মহাকাশ? এর পেছনে রয়েছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় বিজ্ঞান এবং বহু পুরনো পৌরাণিক বিশ্বাস।
জ্যোতির্বিদ্যার দৃষ্টিতে সূর্যগ্রহণের রহস্য: বিজ্ঞান বলছে, সূর্যগ্রহণ তখনই ঘটে যখন চাঁদ আবর্তনের সময় সরাসরি সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে চলে আসে। এই পরিস্থিতিতে চাঁদের ছায়া গিয়ে পড়ে পৃথিবীর ওপর, ফলে পৃথিবী থেকে সূর্য সাময়িকভাবে ঢাকা পড়ে যায়। এই বিশেষ অবস্থানটি কেবল অমাবস্যার দিনেই তৈরি হতে পারে, কারণ এই সময়ে চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের ঠিক একই দিকে অবস্থান করে।
তবে প্রশ্ন উঠতেই পারে, প্রতি অমাবস্যাতেই কেন গ্রহণ হয় না? এর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে কক্ষপথের কৌণিক অবস্থানে। চাঁদের কক্ষপথ পৃথিবীর কক্ষপথের সমতল থেকে প্রায় ৫ ডিগ্রি হেলে থাকে। যার ফলে বেশিরভাগ অমাবস্যায় চাঁদের ছায়া পৃথিবীর ওপর না পড়ে মহাশূন্যে তার ওপর বা নিচে চলে যায়। শুধুমাত্র যখন তিনটি জ্যোতিষ্ক নিখুঁত সরলরেখায় আসে, তখনই গ্রহণ দৃশ্যমান হয়।
পূর্ণিমায় কেন লাগে চন্দ্রগ্রহণ? চন্দ্রগ্রহণের ক্ষেত্রে অবস্থান সম্পূর্ণ উল্টো থাকে। এই সময় পৃথিবী চলে আসে সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে। ফলে সূর্যের সরাসরি আলো চাঁদে পৌঁছাতে বাধা পায় এবং পৃথিবীর বিশাল ছায়া গিয়ে পড়ে চাঁদের ওপর। এই পরিস্থিতি কেবল পূর্ণিমার দিনেই সম্ভব, কারণ এই তিথিতে সূর্য ও চাঁদ পৃথিবীর দুই বিপরীত প্রান্তে অবস্থান করে। এখানেও চাঁদের কক্ষপথের হেলানো পজিশনের কারণে প্রতি পূর্ণিমায় চন্দ্রগ্রহণ হয় না; এর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট মহাজাগতিক সংযোগের প্রয়োজন হয়।
পৌরাণিক বিশ্বাসে রাহু-কেতুর গল্প: বিজ্ঞান ছাড়াও হিন্দু ধর্মে গ্রহণ সংক্রান্ত অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি পৌরাণিক কাহিনী রয়েছে। সমুদ্র মন্থনের সময় দেবতারা যখন অমৃত পান করছিলেন, তখন স্বরভানু নামের এক অসুর ছদ্মবেশে দেবতাদের সারিতে বসে অমৃত পান করে ফেলে। সূর্যদেব ও চন্দ্রদেব তা চিনতে পেরে ভগবান বিষ্ণুকে বিষয়টি জানান। তখন বিষ্ণু তাঁর সুদর্শন চক্র দিয়ে ওই অসুরের মাথা ও ধড় আলাদা করে দেন। কিন্তু তার আগেই তার গলায় অমৃত পৌঁছে যাওয়ায় মাথা ও ধড় অমর হয়ে যায়। মাথার অংশটি ‘রাহু’ এবং ধড়ের অংশটি ‘কেতু’ নামে পরিচিত হয়।
পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, সূর্য ও চন্দ্র দেবতারা রাহুর পরিচয় ফাঁস করে দিয়েছিলেন বলেই রাহু তাদের প্রতি চিরশত্রুতা পোষণ করে। আর সেই আক্রোশ থেকেই রাহু সময়ে সময়ে সূর্য ও চন্দ্রকে গ্রাস করার চেষ্টা করে, যা পরবর্তীতে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।