লাল স্যুটকেসে টুকরো দেহ! চেন্নাইয়ের ভাড়াবাড়িতেই কি খুন করা হয়েছিল মহিলাকে? চাঞ্চল্যকর তথ্য পুলিশের হাতে

চলতি মাসের শুরুতে উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় একটি ট্রেনের লাল স্যুটকেস থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক মহিলার খণ্ডিত দেহাংশ উদ্ধারের ঘটনায় দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। এবার এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে চরম চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেল পুলিশ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, চেন্নাইয়ে যে ভাড়াবাড়িতে দুই অভিযুক্ত থাকত, ঠিক সেখানেই ওই মহিলাকে খুন করে তাঁর দেহ টুকরো করা হয়েছিল।
কী জানা যাচ্ছে তদন্তে? পুলিশের দাবি, যে ভাড়াবাড়িতে অভিযুক্তরা থাকত, সেখানে ওই মহিলার দেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। এমনকি দেহের কিছু অংশ লুকিয়ে রাখার জন্য বা রান্নাঘরে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে বিরিয়ানি তৈরির একটি বড় পাত্রের মধ্যে রাখা হয়েছিল বলেও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, এক পুরুষ ও এক মহিলাকে চেন্নাই সেন্ট্রাল রেলস্টেশনে একটি লাল স্যুটকেস নিয়ে প্রবেশ করতে দেখা গিয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁরা অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে ওই স্যুটকেসটি দিল্লিগামী তামিলনাড়ু এক্সপ্রেসে তুলে দেন। এর সূত্র ধরেই পুলিশ চেন্নাইয়ের গুডুভাঞ্চেরি এলাকার ওই ভাড়া বাড়ির সন্ধান পায়। তবে অভিযুক্তদের আসল পরিচয় এবং তাদের মধ্যে ঠিক কী সম্পর্ক ছিল, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
কীভাবে উদ্ধার হয়েছিল স্যুটকেসটি? গত ৬ আগস্ট আগ্রা ক্যান্ট রেলস্টেশনে ট্রেনের একটি সাধারণ কামরা থেকে লাল রঙের ওই সন্দেহজনক স্যুটকেসটি উদ্ধার করা হয়। ব্যাগের ভেতর থেকে দেহাংশ বেরিয়ে থাকতে দেখে রেল কর্তৃপক্ষকে খবর দেন যাত্রীরা। এরপর পুলিশ এসে স্যুটকেস খুললে পচে যাওয়া মানুষের দেহাংশ উদ্ধার হয়।
ইতিমধ্যে প্রমাণ সংগ্রহের জন্য চেন্নাইয়ের সেই ভাড়া বাড়ি থেকে রান্নার বড় পাত্রটি পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। তবে নিহত মহিলার পরিচয় এখনও জানা সম্ভব হয়নি। তাঁর দেহাংশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ এবং হত্যার নেপথ্যের রহস্য সম্পূর্ণ পরিষ্কার হবে বলে আশা করছেন তদন্তকারীরা।