হরিনাম সংকীর্তনে ধুন্ধুমার! প্রাক্তন কাউন্সিলরকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ইটবৃষ্টিতে ফাটল মাথা

২৪ ঘণ্টার অখণ্ড হরিনাম সংকীর্তনের আসরে অতিথি হিসাবে যোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল আসানসোলে। তৃণমূলের এক প্রাক্তন কাউন্সিলরকে অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বচসা এবং পরে হাতাহাতি ও ইটবৃষ্টির ঘটনা ঘটে। এই আকস্মিক সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে খবর। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঠিক কী ঘটেছিল আসানসোলে? রবিবার দুপুরে আসানসোল পুরসভার ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডের খড়মবাঁধ নিউ কোয়ার্টার এলাকায় ২৪ ঘণ্টার অখণ্ড হরিনাম সংকীর্তনের আয়োজন করা হয়েছিল। স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জয় নোনিয়াকে। অভিযোগ, তিনি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর পরেই স্থানীয় কয়েকজন যুবক— যাঁদের একাংশ বিজেপি-সমর্থক বলে পরিচিত— তাঁকে দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলেন।

কেন তাঁকে চলে যেতে বলা হবে, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র কথাকাটাকাটি শুরু হয়। সঞ্জয়ের পালটা দাবি, তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নয়, বরং সম্পূর্ণ আমন্ত্রণ রক্ষা করতেই একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। তাই পুজো শেষ না করে তিনি ফিরবেন না বলে জানিয়ে দেন।

ইটবৃষ্টি ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত: এই কথা কাটাকাটির জেরে মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং হাতাহাতি শুরু হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ। পুলিশ দুই পক্ষকে আলাদা করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও কিছুক্ষণ বাদেই ফের উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, দুই পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়তে শুরু করে। ইটের আঘাতে বেশ কয়েকজনের মাথা ফেটে যায় এবং অনেকে আহত হন।

আক্রান্ত প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জয় নোনিয়া জানিয়েছেন, আইনের উপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং যারা এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে অশান্ত করেছে, পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। এদিকে, এই ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রসঙ্গত, কদিন আগেই আসানসোলের অন্য একটি ওয়ার্ডে ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে অশান্তির সৃষ্টি হয়েছিল। তার রেশ কাটতে না কাটতেই খড়মবাঁধে ফের এই ধরনের সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *