বহুজন থেকে রাতারাতি ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’ এনসিপিআই! কাকলি-পুত্রের পোস্ট বদলে তীব্র জল্পনা, অস্বস্তিতে দলীয় শিবির

তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে গঠিত নতুন দল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই (NCPI)-এর ভবিষ্যৎ ও পরিচয় নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল তুঙ্গে। লোকসভায় এখনও পর্যন্ত নতুন দল হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি না মেলায় তৃণমূলত্যাগী ২০ জন সাংসদের রাজনৈতিক অবস্থান ঝুলে রয়েছে। এর মধ্যেই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ছেলের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম বিতর্ক ও ধোঁয়াশা।
বৈদ্যনাথের পোস্ট ঘিরে কিসের জল্পনা?
শনিবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন কাকলি-পুত্র তথা চিকিৎসক বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার। সেই পোস্টে এনসিপিআই নামের আগে যুক্ত হয় ‘বহুজন’ শব্দবন্ধ। ‘বহুজন এনসিপিআই’ নামে পরিচিত ওই পোস্টে দলিত, মুসলিম, জনজাতি-উপজাতি ও ওবিসি সম্প্রদায়ের মানুষদের দলে যোগদানের আহ্বান জানানো হয়েছিল। পাশাপাশি, দলীয় সমস্ত পদে অনগ্রসর ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণির জন্য ২৫ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ঘোষণা করা হয়।
এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে— তবে কি এনসিপিআই-এর অন্দরে ভাঙন ধরতে চলেছে? নাকি আলাদা কোনো পথ বেছে নিচ্ছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার?
কী সাফাই দিয়েছিলেন কাকলি-পুত্র?
তৈরি হওয়া জল্পনার মুখে পড়ে বৈদ্যনাথ সাফ জানান যে এটি আলাদা কোনো রাজনৈতিক দল নয়। বরং এটি দলেরই একটি শাখা উইং বা ট্রাস্ট, যা আদিবাসী, মুসলিম ও দলিতদের উন্নয়নে কাজ করবে। তবে এই ব্যাখ্যাতেও দলের অন্দরে অসন্তোষ ও ক্ষোভ ধামাচাপা থাকেনি। এনসিপিআই সাংসদ আবু তাহের স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের বক্তব্য সম্মানীয় হলেও তাঁর ছেলের ব্যক্তিগত মত বা পোস্টের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই।
রাতারাতি বদল ও ডিলিট রহস্য
বিতর্ক বাড়তে দেখে শনিবার রাতেই নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। সোশ্যাল মিডিয়ার পাতা থেকে গায়েব হয়ে যায় ‘বহুজন’ শব্দটি। বহুজন এনসিপিআই-এর পরিবর্তে সেখানে লেখা হয় ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’ (West Bengal) এনসিপিআই। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, কিছু সময় পর সেই পরিবর্তিত পোস্টটিও সম্পূর্ণভাবে মুছে (Delete) ফেলা হয়।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে লোকসভায় আইনি স্বীকৃতির লড়াই, অন্যদিকে দলের অন্দরে নাম ও নীতি নিয়ে এই টানাপোড়েন—সবমিলিয়ে এনসিপিআই শিবিরের অস্বস্তি যে অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।