ভোটের ময়দানে বড় চমক! দল ছাড়তেই মাঝরাতে আরাবুল ইসলামের গাড়িতে বোমা-ইট বৃষ্টির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

আইএসএফ (ISF) ত্যাগের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই চরম উত্তেজনার পরিবেশ ভাঙড়ে। খোদ প্রাক্তন বিধায়ক আরাবুল ইসলামের (Arabul Islam) গাড়ি লক্ষ্য করে বোমাবাজি ও ইট ছোঁড়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল। শনিবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে এই অতর্কিত হামলার মুখে পড়েন তিনি। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন আরাবুল। এই আকস্মিক ঘটনায় গোটা রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল রাতে? পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার গভীর রাতে ভাঙড়ের পোলেরহাট থানার উড়িয়াপাড়া এলাকা দিয়ে নিজের বাড়ি ফিরছিলেন আরাবুল ইসলাম। অভিযোগ, সেই সময় অতর্কিতভাবে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে দু’টি শক্তিশালী বোমা ও পরপর ইট ছোঁড়ে দুষ্কৃতীরা। ইটের আঘাতে গাড়িটির পিছনের কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। আরাবুলের দাবি, তাঁর গাড়ির সঙ্গে থাকা বাইক আরোহীরাও বোমার বিকট শব্দ শুনতে পান। গাড়ির গতি বেশি থাকায় এবং চালকের তৎপরতায় বড়সড় দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির হাত থেকে রক্ষা পান প্রাক্তন বিধায়ক।
কার দিকে আঙুল তুললেন আরাবুল? ঘটনার পর সরাসরি আইএসএফ-এর দিকেই সন্দেহের আঙুল তুলেছেন আরাবুল ইসলাম। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, গাড়িটি ভালো গতিতে এগোচ্ছিল বলেই সেযাত্রায় রক্ষা পাওয়া গেছে। গতি সামান্য কম থাকলে ড্রাইভার বা তাঁর নিজের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারত। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, “আমি আইএসএফ ছেড়েছি, তাই আইএসএফ-এর লোকেরাই এই হামলা চালিয়েছে।”
তদন্তে পুলিশ: খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পোলেরহাট থানার পুলিশ বাহিনী। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেছেন আরাবুল ইসলাম। কে বা কারা, কী উদ্দেশ্যে এই নাশকতামূলক হামলা চালাল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকেই আটক বা গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবারই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টের মাধ্যমে আইএসএফ ছাড়ার কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিলেন আরাবুল ইসলাম। সেই পোস্টে দলের স্বৈরাচার, একনায়কতন্ত্র ও লুম্পেন বাহিনীর বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ উগরে দিয়ে পদত্যাগের কথা জানান তিনি। ঠিক তার পরের দিনই রাতের অন্ধকারে এই হামলার ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক সংঘর্ষের আশঙ্কায় দানা বাঁধছে ভাঙড়ের পরিস্থিতি।