দলীয় নেতার বাড়িতে অস্ত্রাগার? বহরমপুরে প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি গ্রেফতার হতেই রাজ্যজুড়ে তোলপাড়

মুর্শিদাবাদ জেলায় ফের বড়সড় অপরাধের হদিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে খোদ বহরমপুর টাউন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি পাপাই ঘোষের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করল পুলিশ। এই ঘটনায় ওই তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই রাতে জেলার জলঙ্গি থানা এলাকা থেকেও অস্ত্র কারবারে যুক্ত থাকার অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি)। সবমিলিয়ে একই রাতে মুর্শিদাবাদ জুড়ে সাতটি পিস্তল এবং দু’শয়েরও বেশি কার্তুজ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

কী পাওয়া গেছে অভিযানে? পুলিশ সুপার শচীন মক্কার জানিয়েছেন, ধৃত পাপাই ঘোষের বাড়ি থেকে তল্লাশি চালিয়ে দুটি নাইন এমএম পিস্তল, তিনটি ৭.৬১ এমএম পিস্তল এবং মোট ১৮৬ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে, জলঙ্গি থেকে গ্রেফতার হওয়া তিনজনের কাছ থেকে আরও তিনটি ৭.৬ বোরের পিস্তল, দুটি খালি ম্যাগাজিন এবং ৩০ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একসঙ্গে এত পরিমাণ অস্ত্র তাঁর বাড়িতে কেন মজুত রাখা হয়েছিল, সেগুলি কোথা থেকে এল এবং এর নেপথ্যে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

পুরনো মামলা ও সীমান্ত পারের যোগ: পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাপাইয়ের বিরুদ্ধে এর আগেও অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের পর তাঁর এক চালকের বাড়ি থেকে অস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধারের ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল তাঁর। সেই মামলায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর সম্প্রতি আদালত থেকে জামিন পেয়েছিলেন তিনি। এছাড়াও সরকারি জমি দখল ও দাদাগিরির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, বিহার থেকে তুলনামূলক কম দামে এই অস্ত্রগুলি মুর্শিদাবাদে আনা হচ্ছিল এবং জলঙ্গি সীমান্তের জলপথকে ব্যবহার করে তা বাংলাদেশে পাচারের পরিকল্পনা ছিল। ধৃতদের আদালতে পেশ করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের জেরা করে গোটা অস্ত্র পাচার চক্রের মূল পাণ্ডাদের ধরার চেষ্টা চলছে। পর পর এই অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *