সরকারি আবাস পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষাধিক টাকা তোলাবাজি! মারধর ও ঘরছাড়া করার অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূলের শ্রমিক নেতা!

সরকারি আবাসের ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা তোলার অভিযোগ উঠল। শুধু তাই নয়, প্রতিবাদ করায় মারধর করে উপভোক্তাকে ঘরছাড়া করা এবং পরে জরিমানার বিনিময়ে ঘরে ফেরার অনুমতি দেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর অভিযোগে বাঁকুড়ায় গ্রেফতার হলেন শাসকদলের এক শ্রমিক নেতা। ধৃত নেতার নাম বিপত্তারণ গরাই। তিনি আইএনটিটিইউসি (INTTUC)-র বাঁকুড়ার মেজিয়া ব্লকের সদ্য প্রাক্তন সভাপতি।
কী অভিযোগ উঠেছে? পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঁকুড়ার মেজিয়া ব্লকের জেমুয়া গ্রামের বাসিন্দা করুণাময় পাল। অভিযোগ, ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে তাঁকে সরকারি আবাস প্রকল্পের ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তৎকালীন আইএনটিটিইউসি ব্লক সভাপতি বিপত্তারণ গরাই তাঁর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেন। পরবর্তীতে করুণাময়বাবু জানতে পারেন যে, কেবল তিনিই নন, গ্রামের আরও বেশ কয়েকজনের কাছ থেকেও একই কায়দায় টাকা তুলেছেন ওই শ্রমিক নেতা।
এই ঘটনার প্রকাশ্য প্রতিবাদ করায় বিপত্তারণ গরাই ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে করুণাময়বাবুকে মারধর করে জোর করে ঘরছাড়া করার গুরুতর অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের এখানেই শেষ নয়, পরবর্তীতে নাকি আরও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিলে তবেই গ্রামে ফিরে থাকার অনুমতি মিলবে—এমন নিদানও দেওয়া হয়েছিল।
পুলিশের পদক্ষেপ: ভুক্তভোগী করুণাময় পাল সম্প্রতি এই বিষয়ে মেজিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। গতকাল রাতে মেজিয়া থানার পুলিশ অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা বিপত্তারণ গরাইকে গ্রেফতার করে। আজ, রবিবার ধৃতকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বাঁকুড়া জেলা আদালতে পেশ করা হয়েছে। তবে ধৃত নেতার দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাঁকে সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
বিশেষ আপডেট: সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে এই ধরনের দুর্নীতি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে আপনার কী মতামত? কমেন্ট করে জানান আপনার প্রতিক্রিয়া।