বিশ্ববাজারে বাংলার সুগন্ধী চালের জয়যাত্রা! আন্তর্জাতিক মানের রাইস মিল তৈরিতে বড় উদ্যোগ রাজ্যের, রাজধানীতে বিশেষ বৈঠক!

ইতিমধ্যেই জিআই ট্যাগ (GI Tag) পেয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের পরিচিতি তৈরি করেছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী গোবিন্দভোগ ও তুলাইপাঞ্জি চাল। এবার বিশ্ববাজারে এই দুই সুগন্ধী চালের ব্যবসার প্রসার ঘটাতে এবং এর বাণিজ্যিকীকরণকে আরও শক্তিশালী করতে এক বিশেষ উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, খুব শীঘ্রই পশ্চিমবঙ্গে তৈরি হতে চলেছে আন্তর্জাতিক মানের বিশেষ চালকল বা রাইস মিল।
দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক: সম্প্রতি রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল রাজধানী দিল্লিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় রাইস মিলার এবং বাসমতি চাল রফতানি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। ওই বৈঠকেই বাংলার গোবিন্দভোগ ও তুলাইপাঞ্জি চালের বিশ্বায়নে আন্তর্জাতিক মানের রাইস মিল তৈরিতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে ওই সংস্থা। কৃষিমন্ত্রীর এই পদক্ষেপে বাংলার চাষিরা ভবিষ্যতে আর্থিকভাবে দারুণভাবে লাভবান হবেন বলেই আশা করা হচ্ছে।
কোথায় চাষ হয় এবং কেন এই উদ্যোগ? বাংলায় গোবিন্দভোগ চাল তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য হলেও, তুলাইপাঞ্জি চালের চাষ মূলত উত্তর দিনাজপুর জেলাতেই সীমাবদ্ধ। রাজ্যের অন্যান্য বাজারে বা কলকাতার বাজারে এই চালের জোগান তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম। তাই বিশ্ববাজারে এই দুই চালের সঠিক মূল্যায়ন ও চাহিদা তৈরি করতেই এই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই ওই সংস্থার প্রতিনিধিরা রাজ্য পরিদর্শনে আসছেন। কৃষি দফতরের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই উপযুক্ত জমি দেখার কাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বর্ধমান এবং উত্তর দিনাজপুরে দুটি আধুনিক রাইস মিল তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে, উন্নত মানের ধানের উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের নতুন প্রজাতির বীজ বপনের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতায় খুব শীঘ্রই এই প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়িত হবে বলে জানা গিয়েছে।
বিশেষ আপডেট: বাংলার নিজস্ব জিআই চালের আন্তর্জাতিক প্রসার নিয়ে আপনার কী মত? কমেন্ট করে জানান আপনার মতামত।