স্টক-বন্ডে মন নেই ধনীদের! বিকল্প বিনিয়োগের জোয়ারে কোন চমকপ্রদ বদল আসছে ভারতীয় বাজারে?

ভারতের বিনিয়োগের পরিসরে এক বিরাট পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশের ধনী এবং প্রভাবশালী বিনিয়োগকারীরা এখন আর স্টক ও বন্ডের মতো প্রচলিত এবং গতানুগতিক বিকল্পগুলিতে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছেন না। এর পরিবর্তে তাঁরা প্রাইভেট ইক্যুইটি, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, রিয়েল এস্টেট এবং উচ্চতর মুনাফা প্রদানকারী আধুনিক বিনিয়োগের মাধ্যমগুলির প্রতি ঝুঁকছেন। ইওয়াই (EY) এবং জুলিয়াস বেয়ারের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, ভারতের বিকল্প বিনিয়োগ বাজার বর্তমানে প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলারের হলেও, ২০৩৪ সালের মধ্যে তা ২ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি ছুঁতে পারে, যা প্রায় পাঁচ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতের বিকল্প বিনিয়োগ বাজারের আর্থিক আকার প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলার। যার মধ্যে ১৫৬ বিলিয়ন ডলার আসে সেবি-নিবন্ধিত অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (AIF) থেকে। বাকি অংশ অফশোর ইনভেস্টমেন্ট ভেহিকেল, ফ্যামিলি অফিস এবং অন্যান্য তালিকাভুক্ত নয় এমন বিনিয়োগের মাধ্যম থেকে সংগ্রহ করা হয়। এই বিপুল বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হলো বড় মাপের বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ এবং এমন সব সম্পদের চাহিদা, যা শেয়ার বাজারের মতো প্রচলিত ধারার ওপর সরাসরি নির্ভরশীল নয়। এটি লগ্নিকারীদের পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যময় করে তোলার পাশাপাশি অধিক মুনাফা অর্জনের সুযোগ করে দিচ্ছে।

পারিবারিক অফিস ও অতি-ধনীদের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য

এই রূপান্তরের ক্ষেত্রে ভারতের ফ্যামিলি অফিসগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একসময়ে যে প্রতিষ্ঠানগুলি মূলত পরোক্ষ বিনিয়োগের ওপর নজর দিত, তারা বর্তমানে প্রাইভেট ইক্যুইটি এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডে লগ্নির পাশাপাশি সরাসরি সংস্থাতেও বিনিয়োগ করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জলবায়ু প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য শক্তি, ডিজিটাল পরিকাঠামো, সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন এবং ডেটা সেন্টারের মতো ভবিষ্যৎমুখী খাতগুলিতে বিনিয়োগ লাগাতার বাড়াচ্ছে এই পারিবারিক অফিসগুলি। উল্লেখযোগ্যভাবে, দেশে ফ্যামিলি অফিসের সংখ্যা ২০১৮ সালের প্রায় ৪৫টি থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে প্রায় ৩০০টিতে পৌঁছেছে, যা ভারতের সম্পদ ব্যবস্থাপনার পেশাদারী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তরকে স্পষ্ট করে।

অন্যদিকে, দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিও এই প্রবণতাকে আরও তরান্বিত করছে। পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে ভারতে ১৯, হাজারেরও বেশি অতি-উচ্চ-সম্পদশালী ব্যক্তি রয়েছেন, যা ২০৩১ সালের মধ্যে ২৫,০০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে, প্রথাগত স্টক ও বন্ডের গণ্ডী পেরিয়ে ভারতের ধনী বিনিয়োগকারীদের বেসরকারি বাজারের দিকে এই ঐতিহাসিক ঝোঁক দেশের আর্থিক বাজারে এক বিরাট বিপ্লবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *