একই পরিবারের চার সদস্যের রহস্যমৃত্যু! রংপুরে শিক্ষক, স্ত্রী ও দুই সন্তানের নিথর দেহ উদ্ধারে তুফান

বাংলাদেশের রংপুরে এক হিন্দু পরিবারের চার সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শনিবার গভীর রাতে পুলিশ শহরের দাসপাড়া (মাছুয়াপাড়া) এলাকার একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক, তাঁর স্ত্রী এবং দুই সন্তানের নিথর দেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় গভীর আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতরা হলেন রংপুর জেলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), তাঁদের কন্যা আগ্মি চক্রবর্তী প্রতি (২৩) এবং পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র পুত্র প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২)। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গণপতি চক্রবর্তী গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শিক্ষকতা থেকে অবসর নিয়েছিলেন এবং সম্প্রতি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক হিসেবেও কাজ শুরু করেছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই ওই পরিবারের সকল সদস্যের সঙ্গে আত্মীয়-স্বজনদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং সকলের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর শনিবার রাতে সন্দেহ হওয়ায় আত্মীয়রা ওই বাড়িতে ছুটে যান। তাঁরা দেখেন বাড়ির প্রধান দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ এবং ভেতরের সব আলো নেভানো। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেওয়া হলে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
পুলিশ ও ফরেন্সিক দল সূত্রে জানা গেছে, মা ও মেয়ের মরদেহ সিঁড়ির কাছ থেকে, গৃহকর্তার মরদেহ ছাদ থেকে এবং ছোট ছেলের মরদেহ একটি খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। স্থানীয়দের দাবি, ওই শিক্ষক পরিবারের সঙ্গে কারও কোনও শত্রুতা ছিল না।
ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।