বিয়েের ক’মাস পরেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরুণী আধিকারিকের রহস্যমৃত্যু! গর্ভাবস্থাতেই চরম নির্যাতনের অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

বিয়ের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হলো প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সেকশন অফিসার (ASO) ৩০ বছর বয়সী নাজিয়া খানুমের। দিল্লির দ্বারকা জেলার ভার্থাল গ্রাম থেকে তাঁর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে গুরুতর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ এপ্রিল মুসলিম রীতি মেনেই আজম আলী খানের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল নাজিয়ার। কিন্তু বিয়ের সুদিন বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামী, শাশুড়ি ও শ্বশুরের পক্ষ থেকে তাঁর ওপর অকথ্য নির্যাতন শুরু হয়। তাঁকে নিয়মিত গালিগালাজ ও মারধর করা হতো বলে অভিযোগ। এমনকি মাঝেমধ্যে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।

সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, নাজিয়া যখন এই ঘটনার শিকার হন, তখন তিনি তিন মাসের গর্ভবতী ছিলেন। গর্ভাবস্থাতেও তাঁর ওপর চলা এই নির্যাতন বন্ধ হয়নি। মাঝেমধ্যে ফোনে পরিবারের কাছে কান্নাকাটি করে নিজের ওপর চলা অন্যায়ের কথা জানাতেন ওই তরুণী।

গত ২১ আগস্ট ভোরে আকস্মিক এক ফোন পায় নাজিয়ার পরিবার। নাজিয়ার শ্বশুর ফোন করে জানান যে তিনি মারা গিয়েছেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভার্থাল গ্রামের একটি অ্যাপার্টমেন্টের ঘর থেকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

নাজিয়ার পরিবারের সন্দেহ, লাগাতার শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালিয়ে তাঁকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য করা হয়েছে, কিংবা তাঁকে খুন করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে সাজানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। পরিবারের করা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যে মামলা রুজু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেন্সিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *