বাড়ির পাশেই অবহেলায় পড়ে থাকা এই দেশি ফলগুলো খাচ্ছেন তো? গুণ জানলে আজই বাজার থেকে কেনা বন্ধ করবেন!

আমাদের চারপাশের প্রকৃতিতে এমন অনেক ফল গাছ রয়েছে যেগুলোর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আমরা অনেকেই ওয়াকিবহাল নই। একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে, বাড়ির আশপাশে কিংবা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এমন কিছু ফল ধরে যা সাধারণ অবহেলায় পড়ে থাকে। কিন্তু পুষ্টিবিদ ও গবেষকদের মতে, এই ফলগুলোতে লুকিয়ে রয়েছে অসাধারণ কিছু ঔষধি গুণ, যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং নানা শারীরিক জটিলতা দূর করতে দারুণভাবে কাজ করে।

বাতাবি লেবু
পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও কেরালা ও কর্নাটকের কয়েকটি নির্দিষ্ট জায়গায় এই ফলটি পাওয়া যায়। প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভর্তি এই ফলটি শরীরে বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না এবং ত্বক ও কোষের সতেজতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

কামরাঙা
টক-মিষ্টি স্বাদের এই ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। এটি লিভারের নানা সমস্যা আটকাতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। তা ছাড়া শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতেও এই ফলের জুড়ি মেলা ভার।

বেল
পেটের নানা সমস্যায় যারা দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন, তাদের জন্য বেল মহৌষধের মতো কাজ করে। নিয়মিত একটু করে পাকা বেল বা বেলের শরবত খেলে পেটের বহু পুরোনো গোলমাল অনেকটাই কমে যেতে পারে। এছাড়া নানা ধরনের সংক্রমণ আটকাতেও এই ফলটি দারুণ সাহায্য করে।

চালতা
পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয়ে এই ফলটি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং হৃদরোগের আশঙ্কা কমানোর মতো নানা উপকার করতে পারে চালতা। রোজ দুপুরের খাবারের সঙ্গে এই ফল রাখতে পারলে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

সোহ ফিয়ে
মূলত মেঘালয়ের মাটিতে এই বিশেষ ফলটি পাওয়া যায়। সাধারণত এপ্রিল থেকে জুলাই মাসের মধ্যে এই ফলের ফলন হয়। এটি পেটের নানা সমস্যা দ্রুত কমিয়ে দিতে পারে এবং শরীরে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াজাত সংক্রমণ ঠেকিয়ে রাখতে সাহায্য করে।

জাপানি ফল (পার্সিমন)
হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং জম্মু ও কাশ্মীরের মতো পাহাড়ি অঞ্চলে এই ফল পাওয়া যায়। এটিও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর একটি ফল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শরীরের নানা ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধ করতে ব্যাপকভাবে সাহায্য করে।

মাংগুস্তান
খুব সচরাচর সব জায়গায় দেখতে পাওয়া না গেলেও, ভারতের কিছু অঞ্চলে এই ফলটির ফলন হয়। এটি নানা ধরনের ভিটামিনে সমৃদ্ধ। শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বা ইমিউনিটি বাড়াতে এটি দারুণ কাজে লাগে।

খিরনি
গ্রীষ্মকালে ভারতের নানা অঞ্চলে এই ফলের ফলন দেখা যায়। এটি মূলত এক ধরনের বেরি জাতীয় ফল। জন্ডিসের মতো মারাত্মক সমস্যা ঠেকাতে এবং যকৃতকে সুস্থ রাখতে এটি দারুণ কার্যকর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *