থিয়েটারাইজেশন নিয়ে বড় ঘোষণা! বিমান বাহিনীর প্রধানের মন্তব্যে চাঞ্চল্য, হুট করে সিদ্ধান্ত নয় কেন?

দেশের সামরিক কমান্ড পুনর্গঠন বা ‘থিয়েটারাইজেশন’ (Theaterisation) প্রক্রিয়া নিয়ে অবশেষে মুখ খুলল ভারতীয় বিমান বাহিনী। সম্প্রতি কানপুরে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, বিমান বাহিনী এই কাঠামোগত পরিবর্তনের বিরুদ্ধে নয়। তবে যে কোনও নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার আগে হুট করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে একটি বস্তুনিষ্ঠ ও সুচিন্তিত দৃষ্টিভঙ্গি থাকা জরুরি, যাতে বিদ্যমান সামরিক কাঠামোর ওপর ন্যূনতম প্রভাব বা ব্যাঘাত না ঘটে।
তিন বাহিনীর মধ্যে আরও উন্নত সমন্বয় ও যৌথ কর্মক্ষমতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে ২০১৯ সালে এই থিয়েটারাইজেশন পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র। এই মডেলের মূল লক্ষ্য হল সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর সম্পদ ও সক্ষমতাকে একত্রিত করে নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলো আরও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করা। তবে এই বিষয়ে বিগত বেশ কিছুদিন ধরে নানা মহলে বিভিন্ন আলোচনা ও জল্পনা চলছিল।
এদিনের অনুষ্ঠানে সেই জল্পনা উড়িয়ে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, “গণমাধ্যমে যেভাবে তুলে ধরা হচ্ছে, বিমান বাহিনী আসলে থিয়েটারাইজেশনের বিরোধী নয়। আমরা কেবল চাই বিষয়টির একটি বস্তুনিষ্ঠ পর্যালোচনা হোক।” তাঁর মতে, অন্য কোনও দেশের পদ্ধতি হুবহু অন্ধের মতো অনুকরণ করার চেয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে নিজস্ব সমাধান খুঁজে নেওয়া অনেক বেশি কার্যকরী হবে। বিশেষ করে বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘অপারেশন সিঁদুর’ কার্যক্রমের প্রস্তুতি মাথায় রেখে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি।
পাশাপাশি, দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং সামরিক সরঞ্জাম আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর সরকারি নীতিকেও জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন বিমান বাহিনী প্রধান। তাঁর মতে, ভারতীয় সংস্থাগুলির কাজের চাপ কমাতে দেশের বেসরকারি খাতের নির্মাতারাও বিদেশি সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে পারে। বিমান বাহিনীর সদর দফতর এই পুরো বিষয়টি খুঁটিয়ে পর্যালোচনা করছে এবং সরকারের কাছে পেশ করা মতামতের ভিত্তিতে সঠিক সিদ্ধান্তই নেওয়া হবে বলে পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন তিনি।