প্রবীণতম বন্দির মুক্তি! ১০৫ বছর বয়সে জেলের কালো অধ্যায় পেরিয়ে মুক্ত বাতাসে মালদহের রসিক চন্দ্র মণ্ডল

জীবন এবং আইনের দীর্ঘ লড়াই শেষে অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন রসিক চন্দ্র মণ্ডল। বয়স এখন একশো পাঁচ বছর। শারীরিক অসুস্থতা এবং চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার এই অন্তিম বয়সে এসে কারাগারের চার দেওয়াল থেকে চিরতরে মুক্তি পেলেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের জেল ইতিহাসে তিনিই প্রবীণতম বন্দি হিসেবে দীর্ঘ কারাভোগের পর মুক্তি পেলেন।

নব্বইয়ের দশকের একটি ঘটনার জেরে তাঁর জীবন সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছিল। পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের জেরে ১৯৮৮ সালে তাঁর ভাই সুরেশ মণ্ডল খুন হন। সেই ঘটনায় ১৯৯৪ সালে নিম্ন আদালত রসিক চন্দ্র মণ্ডলকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। সেই সময় তাঁর বয়স ছিল ৭াউ বছর। আইনি লড়াইয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে বারবার আবেদন জানানো হলেও নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত সেই সাজা বহাল রাখা হয়।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর শরীর ভাঙতে শুরু করে। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে ২০২০ সালে তিনি দেশের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন। সেই সময় তাঁর বয়স ছিল প্রায় একশো বছর। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন মুক্তি দেয়। এরপর ২০২৬ সালে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চ তাঁর শারীরিক অবস্থা ও বয়সের কথা বিবেচনা করে বাকি সাজা সম্পূর্ণ মকুব করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।

শীর্ষ আদালতের এই ঐতিহাসিক রায়ের ফলে আর কারাগারে ফিরতে হবে না রসিক চন্দ্র মণ্ডলকে। এখন থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন নাগরিকের মতো বাকি জীবন কাটাতে পারবেন তিনি। শৈশব, যৌবন এবং সংসারের চড়াই-উতরাই পেরিয়ে জীবনের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে এই মুক্তি তাঁর কাছে এক নতুন পাওয়ার মতো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *