চিনকে বড় ধাক্কা! ভারতে কি এবার তৈরি হবে ম্যাকবুক ও অ্যাপল ওয়াচ? বিরাট ইঙ্গিত অশ্বিনী বৈষ্ণবের

ভারতে টেকনোলজি ম্যানুফ্যাকচারিং বা উৎপাদনের ক্ষেত্রে খুব শীঘ্রই এক বিরাট বিপ্লব আসতে চলেছে। ভারতের মাটিতে উৎপাদন ইউনিট আরও বৃদ্ধি করতে পারে টেক জায়ান্ট অ্যাপল। এবার আইফোনের পাশাপাশি দেশের মাটিতেই অন্যন্য প্রিমিয়াম ডিভাইসগুলিও তৈরি করা হতে পারে বলে জোরালো ইঙ্গিত মিলেছে। এই প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে মুখ খুলেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, অ্যাপল কি ভারতে আইফোনের পাশাপাশি অন্যান্য ডিভাইসও তৈরি করবে? জবাবে মন্ত্রী স্পষ্ট হ্যাঁ সূচক উত্তর দেন। তাঁর কথায়, ভারতের উৎপাদন ইউনিটগুলি থেকে ভবিষ্যতে শুধু আইফোনই নয়, বরং অ্যাপল ওয়াচ, অ্যাপল ট্যাগ এবং ম্যাকবুকের মতো জনপ্রিয় গ্যাজেটগুলিও তৈরি হতে পারে। যদিও ঠিক কোন কোন ডিভাইস কবে থেকে তৈরি হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কোনো সময়সীমা জানাননি তিনি।
চিন ছেড়ে ভারতে আসছে গুগলের পিক্সেল প্রোডাকশন? অ্যাপলের পাশাপাশি আরও এক টেক জায়ান্ট গুগলও ভারতে তাদের প্রোডাকশন ইউনিট নিয়ে আসার বড়সড় পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে চিনে পিক্সেল ফোন তৈরি হলেও, সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকা ও চিনের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত উত্তেজনার জেরে বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে গুগল। ২০২৭ সালের মধ্যে পিক্সেল স্মার্টফোন, স্মার্টওয়াচ এবং ওয়্যারলেস ইয়ারবাডসের সম্পূর্ণ উৎপাদন ইউনিট চিন থেকে পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে এই মার্কিন সংস্থাটি।
ইতিমধ্যেই গত কয়েক বছরে ভিয়েতনাম এবং ভারতে পিক্সেল উৎপাদনের পরিকাঠামো অনেকটাই বাড়িয়েছে গুগল। সংস্থার লক্ষ্য, আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে পিক্সেলের পুরো প্রোডাকশন চেন থেকে সরিয়ে ভারতে নিয়ে আসা।
দেশীয় সংস্থাদের নিয়েও বড় পরিকল্পনা অ্যাপল ও গুগলের পাশাপাশি আরও তিনটি প্রধান ভারতীয় স্মার্টফোন প্রস্তুতকারী সংস্থার সঙ্গেও উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চালাচ্ছে কেন্দ্র। আগামী ১০ থেকে ১৪ মাসের মধ্যে ওই দেশীয় সংস্থাগুলি ভারতে তাদের উৎপাদন ক্ষমতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করতে চলেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন, বিশ্বমানের প্রিমিয়াম সেগমেন্টের স্মার্টফোনগুলির সঙ্গে জোর টক্কর দিতে দেশীয় এই সংস্থাগুলি উন্নত প্রযুক্তি এবং সেরা ডিজাইনের ফোন বাজারে আনার পরিকল্পনা করছে।
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের একটি সাম্প্রতিক গবেষণা রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যে ভারতের মোট স্মার্টফোন উৎপাদন গোটা বিশ্বের উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশে গিয়ে পৌঁছবে এবং এর জেরে বিশ্বজুড়ে পণ্য রপ্তানির পরিমাণও বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।