১৯৩৭ সালের পুরোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে চরম বিতর্ক! ‘বন্দে মাতরম’ বিতর্ককে হাতিয়ার করে আসরে নামলেন নীতিন নবীন

রাজনৈতিক স্বার্থ বা তোষণের খাতিরে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর মর্যাদাহানি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সম্প্রতি নেওয়া একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে শনিবার এই বার্তা দিল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। বন্দে মাতরমের সম্পূর্ণ ইতিহাস ও ঐতিহ্য তরুণ প্রজন্মের মনে গেঁথে দিতে এবার দেশব্যাপী বড়সড় প্রচার কর্মসূচি শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পদ্মশিবির।

শনিবার বিজেপির নতুন পদাধিকারীদের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যার সভাপতিত্ব করেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন (Nitin Nabin)। ওই বৈঠকেই বন্দে মাতরমের অবমাননা রোধে একটি জোরালো প্রস্তাব পাশ করা হয়। পরে সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ‘এক্স’-এ সেই প্রস্তাবের কথা প্রকাশ করে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান নীতিন নবীন।

ঠিক কী নিয়ে এই বিতর্ক?
গত ১৯ আগস্ট কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির একটি বৈঠকে ১৯৩৭ সালের একটি পুরনো সিদ্ধান্তকে ফের পুনর্ব্যক্ত করা হয়। সেখানে জানানো হয় যে, কংগ্রেসের যেকোনো দলীয় অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ গানের সম্পূর্ণ রূপ না গেয়ে কেবল প্রথম দুটি স্তবক গাওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের পরই রাজনৈতিক মহলে ঝড় ওঠে এবং দ্রুত ময়দানে নামে বিজেপি।

নীতিন নবীন তাঁর পোস্টে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, কংগ্রেসের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে দল “দৃঢ়ভাবে নিন্দা এবং দ্ব্যর্থহীনভাবে বিরোধিতা” করছে। তাঁর অভিযোগ, সংকীর্ণ ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি, সাম্প্রদায়িক চাপ এবং রাজনৈতিক সুবিধার খাতিরে জাতীয় গানকে খর্ব করার এই চেষ্টা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। জাতীয় সংগীত বা গানের সম্মানের সঙ্গে দল কোনো অবস্থাতেই আপস করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

দেশজুড়ে মেগা প্রচারের পরিকল্পনা বিজেপির:
বন্দে মাতরমের ৬টি স্তবকের সম্পূর্ণ রূপ, এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে এর গুরুত্ব যাতে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভুলে না যায়, সেই উদ্দেশ্যে দেশজুড়ে একটি ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছে বিজেপি। দেশের প্রতিটি কোণায় এই গানের প্রকৃত অর্থ এবং জাতীয় তাৎপর্য তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে এই গৌরবের ইতিহাস সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করা এই প্রচারের মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি, এই প্রচারে মহাত্মা গান্ধীর সেই ঐতিহাসিক মন্তব্যটিও তুলে ধরা হবে, যেখানে তিনি বন্দে মাতরমকে “বিশুদ্ধ জাতীয় অনুভূতির” প্রতীক এবং একটি শক্তিশালী “সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী স্লোগান” হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, বন্দে মাতরমের মতো সংবেদনশীল ইস্যুকে সামনে রেখে বিজেপির এই দেশব্যাপী প্রচার আগামী দিনে রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *