এবার কাঠগড়ায় হাফিজ সইদ! আদালতে হাজিরার জন্য সমন পাঠাচ্ছে এনআইএ, ভারতে এনে বিচারের প্রস্তুতি?

জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনায় এবার আইনি ফাঁস আরও শক্ত করতে চলেছে ভারত। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA)-এর টার্গেটে এখন পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধ সংগঠন লস্কর-ই-তইবার (LeT) প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদ। তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া মেনে জম্মুর বিশেষ এনআইএ আদালতে হাফিজ সইদকে হাজির হওয়ার জন্য সমন পাঠানো হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই পহেলগাম হামলার মূল চক্রান্তকারী হিসেবে হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। এনআইএ-র পক্ষ থেকে জুলাই মাসে দাখিল করা সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে লস্কর-ই-তইবা এবং তার শাখা সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF)-এর প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম যুক্ত করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (UAPA)-এর একাধিক ধারায় তার বিরুদ্ধে দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা ও পাকিস্তান থেকে সন্ত্রাসবাদী হামলার চক্রান্ত করার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
এনআইএ সূত্রে খবর, মোট ১,৫৯৭ পাতার মূল চার্জশিটের পরিপূরক হিসেবে পেশ করা এই সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে হাফিজ সইদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা, পাকিস্তানভিত্তিক ষড়যন্ত্রের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ এবং সংগৃহীত সমস্ত জোরালো প্রমাণের বিশদ তথ্য রয়েছে। গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগামে হওয়া সেই বর্বরোচিত হামলায় ২৬ জন নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ঘটনার ভয়াবহতা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে পুরো মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে এনআইএ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আইনি পদক্ষেপটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। হাফিজ সইদকে সরাসরি বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোই বর্তমান লক্ষ্য। তবে আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরেও সইদ যদি আদালতে হাজির হতে ব্যর্থ হয়, তবে ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’ (BNSS), ২০২৩-এর ৩৫৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী তার অনুপস্থিতিতেই বিচার প্রক্রিয়া চালিয়ে গিয়ে রায় ঘোষণা করতে পারবে বিশেষ আদালত। অর্থাৎ, পাকিস্তান থেকে তাকে না আনা গেলেও, এই মামলায় পলাতক হাফিজ সইদকে ‘সশ্রম সাজা’ শোনানোর জন্য আইনি সব পথ খোলা রাখছে ভারত।