দল কি তবে ভাঙনের মুখে? ‘বহুজন’ শব্দ জুড়তেই এনসিপিআই-এর অন্দরে নতুন সমীকরণ নিয়ে মুখ খুললেন কাকলি!

তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিদ্রোহী সাংসদদের নিয়ে গঠিত ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া’ বা এনসিপিআই (NCPI) শিবিরে কি নতুন করে কোনো ভাঙন বা রূপান্তরের পালা শুরু হয়েছে? বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ছেলের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা দানা বেঁধেছে। এনসিপিআই-এর নাম বদলে বা এর সমান্তরালে নতুন কোনো রাজনৈতিক অধ্যায় আসছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে গুঞ্জন।
সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নামে একটি পোস্ট শেয়ার করেন তাঁর ছেলে বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার। আর সেই পোস্ট ঘিরেই বাঁধে বিপত্তি। দেখা যায়, এনসিপিআই দলের নামের ঠিক আগেই যুক্ত হয়েছে নতুন একটি শব্দ—‘বহুজন’। ওই পোস্টে দলিত, মুসলিম, জনজাতি-উপজাতি ও ওবিসি সম্প্রদায়ের মানুষদের নতুন এই ‘বহুজন এনসিপিআই’-তে যোগ দেওয়ার জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। এমনকি যোগাযোগের জন্য একটি ফোন নম্বরও প্রকাশ করা হয়। এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে যে, তবে কি এনসিপিআই-এর অন্দরেই অন্য কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে?
ঘটনার জেরে যখন জল্পনা তুঙ্গে, তখন সমস্ত গুঞ্জনে জল ঢেলে মুখ খুলেছেন খোদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দলের সোশ্যাল মিডিয়া সেল থেকেই এই পোস্ট করা হয়েছিল। বিদ্রোহী সাংসদরা এনসিপিআই (ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া) নামেই একজোটে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং আগামী দিনেও এই দলই সকলের অধিকারের পক্ষে লড়াই করবে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি, বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদারের পক্ষ থেকেও সাফাই দিয়ে জানানো হয়েছে যে এটি নতুন কোনো রাজনৈতিক দল নয়, বরং দলীয় স্তরে অনগ্রসর শ্রেণি ও পিছিয়ে থাকা মানুষদের নিয়ে কাজ করার জন্য একটি বিশেষ শাখা বা ট্রাস্টের উদ্যোগ। তা সত্ত্বেও এই পোস্টকে ঘিরে তৈরি হওয়া চাঞ্চল্য আপাতত থামছে না।