নতুন কমিটি ও ইন্টারলোকিউটার—পাহাড় সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কেন্দ্র কি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করল?

পাহাড়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জট কাটাতে শিলিগুড়িতে বসলো উচ্চপর্যায়ের ‘শাহী-বৈঠক’। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে পাহাড়ের স্থায়িত্ব ও অধিকার নিয়ে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। এই বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা, রাজ্যসভার সাংসদ হর্ষবর্ধন শ্রিংলা এবং পাহাড়ের বিভিন্ন বিধায়ক ও গোর্খা সমাজের জোটসঙ্গীদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের পর এই দিনটিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা। তাঁর কথায়, দীর্ঘ ৪০ বছরের সংগ্রাম এবং বিগত সরকারের অবহেলার পর অবশেষে পাহাড়ে ন্যায়বিচার মিলবে। বিজেপির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর আস্থা রেখে তিনি জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নিযুক্ত মধ্যস্থতাকারী পঙ্কজ কুমার সিং-এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিই চুক্তির চূড়ান্ত ড্রাফটিংয়ের কাজ করবে। রাজু বিস্তার দাবি, সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে থেকেই এমন এক সমাধান আসতে চলেছে, যা গোর্খা সমাজের সমস্ত প্রত্যাশাকেও ছাপিয়ে যাবে।

অন্যদিকে, গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরিও এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের দীর্ঘদিনের সমস্যা যে সাংবিধানিক উপায়েই মিটবে, তা এই বৈঠকে এক প্রকার স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। যদিও মূল সমাধানের বিশদ খসড়া বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনই করা হয়নি। কমিটির হাতেই এখন সেই গুরুদায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে এই নতুন কমিটি গঠন ও ফের সমীক্ষার প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিরোধী শিবিরের একাংশ একে ‘নতুন আশ্বাসের রাজনীতি’ বলে তোপ দাগছে। আদৌ কেন্দ্র পাহাড়ের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান চায় কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে বিতর্ক। পঙ্কজ সিংয়ের নেতৃত্বে এই কমিটি শেষ পর্যন্ত কোন দিশা দেখায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সারা পা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *