আরও বাড়বে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র বরাদ্দ? ভবানীপুরের সভা থেকে বড় ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

রাজ্যের জনপ্রিয় সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র (Annapurna Yojana) পরিধি আরও বৃদ্ধি করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরের এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যের প্রকৃত ও যোগ্য মহিলারা যাতে কোনওভাবেই এই ভাতার টাকা থেকে বঞ্চিত না হন, তার জন্য প্রয়োজনে এই প্রকল্পের বাজেট বা আর্থিক বরাদ্দ আরও বাড়ানো হবে। অগস্ট মাসেই রাজ্যের ১ কোটির বেশি মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের টাকা সফলভাবে পৌঁছে গিয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
অগস্টে ১ কোটিরও বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে আর্থিক সহায়তা
এদিন সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, জুনের প্রথম দিকে এই প্রকল্পের সূচনা হওয়ার পর ধাপে ধাপে উপভোক্তার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। অগস্ট মাসে প্রায় ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলা সফলভাবে অন্নপূর্ণা যোজনার ভাতার টাকা পেয়েছেন। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জুনে যেখানে মাত্র ২৮ লক্ষ মহিলা এর সুবিধা পেয়েছিলেন, আজ তা বেড়ে ১ কোটি ৪৫ লক্ষ ছাড়িয়েছে। আমি কথা দিয়ে গেলাম, যাঁরা প্রকৃতপক্ষেই এই সামান্য ভাতার উপর নির্ভর করেন বা এই ভাতার হকদার, আরও ২০-৩০ লক্ষ মহিলার নাম বাদ গেলেও বা প্রয়োজন পড়লে আমি তাঁদেরও টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করব।”
পূর্ববর্তী সরকারের আমলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ দুর্নীতি নিয়ে তীব্র আক্রমণ
অতীতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চালুর সময়কার বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রসঙ্গও এদিন তীব্র ভাষায় তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ২০২১ সালে মাত্র ৫০০ টাকা দিতে দীর্ঘদিন সময় লাগিয়েছিল তৎকালীন প্রশাসন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটের ঠিক আগে সেই টাকা বাড়িয়ে ১০০০ টাকা করা হয় এবং বিধানসভা ভোটের তিন মাস আগে তা ১৫00 টাকায় পৌঁছায়। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, “যে সমস্ত এলাকায় বিজেপি প্রার্থীরা জয়লাভ করেছিলেন, সেখানকার মহিলাদের বিগত দিনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে নিয়মিত সেই অর্থ দেওয়া হয়নি।”
বিরোধীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা
সভা থেকে বিরোধীদের উদ্দেশে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ধমক-চমক দিয়ে, সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলস বানিয়ে আর মিডিয়া ট্রায়াল করে হেরে যাওয়া দলগুলির বুদ্ধি আর বেশি দিন টিকবে না। জনগণের ট্যাক্সের একটি টাকাও অপচয় হতে দেওয়া হবে না।”
এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছিল যে, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং ভুয়ো উপভোক্তাদের ছাঁটাই করতে কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া (Scrutiny) চালানো হয়েছে। তবে যোগ্য মহিলারা যাতে কোনওভাবেই বঞ্চিত না হন, সেই আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এর আগেও জানিয়েছিলেন যে হকের টাকা সঠিক প্রাপকদের কাছেই পৌঁছে দেওয়া সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। ভবানীপুরের এই সভা থেকে বরাদ্দ বৃদ্ধির নতুন বার্তার পর রাজ্যের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মহিলাদের মুখে যে হাসি চওড়া হবে, তা বলাই বাহুল্য।