২০০-২৫০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি! জীবনের অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে মুখ খুললেন জনপ্রিয় অভিনেতা রাজপাল যাদব

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রাজপাল যাদবের (Rajpal Yadav) গত কয়েক বছরের জীবনটা যে একেবারেই সহজ ছিল না, তা সকলেরই জানা। দীর্ঘদিনের আর্থিক অনটন, দেনার পাহাড় এবং একের পর এক আইনি জটিলতার মধ্য দিয়ে তাঁকে কঠিন লড়াই চালাতে হয়েছে। এবার নিজের জীবনের সেই অন্ধকার ও সংগ্রামময় অধ্যায় নিয়ে প্রথমবার সরাসরি মুখ খুললেন অভিনেতা। রাজপাল যাদবের দাবি, বিগত ১৩ বছরে চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়ে তাঁর প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকার বিশাল ক্ষতি হয়েছে। তবে এত প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি নিজের অভিনয় পেশা ও শিল্পীসত্তার সঙ্গে কখনো আপস করেননি।

যেভাবে নেমে এসেছিল আর্থিক সংকট: বলিউডের এই কমেডিয়ান জানান, ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যবর্তী সময়টাই ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন আর্থিক সংকটকাল। এই সময়ে তাঁর হাত থেকে প্রচুর কাজের সুযোগ বেরিয়ে যায়। এমনকি বিদেশের মাটিতে কাজ করার বহু পথও চিরতরে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। অভিনেতার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই কয়েক বছরে অন্তত ৫০টি বিদেশ সফরের সুযোগ হাতছাড়া হয়েছিল তাঁর। যার ফলে কাজের পরিধি যেমন কমে যায়, তেমনই আয় তলানিতে ঠেকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ক্ষতি সুদে-আসলে ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকার বিরাট অঙ্কে গিয়ে ঠেকে।

আইনি জটিলতা ও সিনেমার ঋণ: রাজপাল যাদবের এই দেউলিয়া দশা ও আইনি প্যাঁচের নেপথ্যে দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে রয়েছে তাঁর নিজের পরিচালিত ছবি ‘আতা পতা লাপতা’। অভিনেতার আইনজীবীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সিনেমার জন্য ব্যবসায়ী মাধব গোপাল আগরওয়াল প্রায় ৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। পরবর্তীতে লেনদেন সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হলে মামলা আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দিল্লি হাইকোর্ট রাজপালের বিরুদ্ধে থাকা সাতটি চেক বাউন্সের মামলায় নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখে। প্রতিটি মামলায় তাঁকে তিন মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগেও এই মামলার জেরে জেল হেফাজতে কাটাতে হয়েছিল তাঁকে। যদিও অভিনেতার আইনজীবীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, রাজপাল ইতিমধ্যেই আড়াই কোটি টাকা পরিশোধ করে দিয়েছেন এবং বাকি বকেয়া টাকা মিটিয়ে দিতেও তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলেন। সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে ব্যস্ত জনপ্রিয় এই অভিনেতা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *