ভারতের মাটিতে পা রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তা! বড় ধাক্কা খেলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী?

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর ঘিরে জল্পনা ও সংশয় দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর তাঁর এ দেশে আসার কথা থাকলেও, শেষ মুহূর্তের বেশ কিছু ঘটনায় তৈরি হয়েছে বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন।
মহড়া বাতিলের সিদ্ধান্ত ও জট: প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে গত শনিবার রাষ্ট্রপতি ভবনে একটি বিশেষ মহড়ার আয়োজন করার কথা ছিল। তবে শুক্রবার রাইসিনা হিলসের তরফে এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় যে, সেই মহড়াটি আপাতত হচ্ছে না। যদিও ঘণ্টাখানেকের ব্যবধানে ‘চেঞ্জ অফ গার্ড’ বাতিলের ঘোষণা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়, তবুও এই ধোঁয়াশা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্পর্কের টানাপোড়েন ও হাসিনার ইস্যু: কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই জটিলতার নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক ঘটনা। এ মাসের শুরুতে দিল্লিতে একটি ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠক থেকে বাংলাদেশের বিএনপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন সে দেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই তাঁকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জোরালো করে ঢাকা। বাংলাদেশের তরফে জানানো হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে দুই দেশের বন্ধুত্বের অনুকূল পরিবেশ না থাকলে সফর নিয়ে পুনর্বিবেচনা হতে পারে।
দিল্লির অবস্থান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা: অন্যদিকে, ভারতের বিদেশমন্ত্রক সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে হাসিনার ওই সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজক ছিল একটি বেসরকারি সংস্থা এবং এর সঙ্গে কেন্দ্রের কোনো যোগ নেই। দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলাতে এবং বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছেন। তবে হাসিনাকে প্রত্যার্পণ নিয়ে মোদি সরকারের অনমনীয় মনোভাব এবং ঢাকার রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার জেরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নেবে কি না, তা নিয়ে এখন বড়ো প্রশ্নচিহ্ন থেকেই যাচ্ছে।