সেউটার স্বপ্ন বনাম কঠিন বাস্তবতার লড়াই! ইউরোপে পাড়ি দিতে গিয়ে চরম বিপদে মরক্কোর অভিবাসীরা

স্পেনের সেউটার ঠিক পাশেই অবস্থিত মরক্কোর সীমান্তবর্তী শহর ফনিদেক। এ শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে সৈকত—সবখানেই এখন শুধুই উন্নত জীবনের আশায় বর্ডার পার হতে চাওয়া একদল মরিয়া মানুষের ভিড়। কিন্তু স্বপ্ন আর বাস্তবতার এই নির্মম খেলায় কপালে জুটছে কেবল অনিশ্চয়তা, কষ্ট আর চরম বিপদ। সম্প্রতি ডয়চে ভেলের এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে মরক্কোর এই অভিবাসন সংকটের ভয়াবহ চিত্র।
গুজব ও সোশ্যাল মিডিয়ার ফাঁদ: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু বিভ্রান্তিকর ভিডিও ও গুজবের জেরে মরক্কোর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণ ও অসহায় মানুষেরা ভিড় জমাচ্ছেন ফনিদেকে। গত জুলাই মাসের শেষের দিকে প্রায় ৭২ হাজার মানুষ মরক্কো থেকে সেউটায় প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। সেই সময় প্রায় ১০০ জনের প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটে। বর্তমানে আনুমানিক ২ হাজার থেকে ৮ হাজার মানুষ এখনো সেউটার সমুদ্রসৈকতে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন, স্পেনের সরকার তাদের ভাগ্যে কী রায় দেয় সেই অপেক্ষায়।
কান্নাভেজা চোখে মায়েদের আর্তনাদ: পশ্চিম মরক্কোর কাসাব্লাংকা থেকে দুই সন্তানকে নিয়ে ফনিদেকে আসা মালিকা (ছদ্মনাম) ডয়চে ভেলেকে তাঁর ভাঙা মনের কথা জানিয়েছেন। চোখে জল নিয়ে তিনি বলেন, “আমার জীবনটাই শেষ। আমার আর কোনো জীবন নেই। আমার সন্তানরা না খেয়ে আছে, বাসস্থান নেই। তাই চাই ওরা সেউটায় যাক, পড়াশোনা করুক এবং ভালো থাকুক।”
কর্মসংস্থানের অভাব ও তরুণদের হতাশা: ওয়েদ জেম শহর থেকে আসা ২২ বছর বয়সি আহমেদ আমহিদ ফনিদেকে আত্মীয়ের সঙ্গে রাস্তায় পানীয় বিক্রি করছেন। তাঁর কথায়, নিজের শহরে কোনো কর্মসংস্থান বা ভবিষ্যৎ নেই দেখেই তিনি মরক্কো ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। মরক্কোর গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ আহমেদ আল-দাফরি জানিয়েছেন, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন আহ্বান মানুষকে সংগঠিত করার এক নতুন মাধ্যম হয়ে উঠেছে, যা তরুণদের আবেগকে উসকে দিচ্ছে।
ঝুঁকি নিতে নারাজ স্থানীয়রা: সবাই মরক্কো ছাড়তে চাইলেও স্থানীয় কিছু মানুষ এই আত্মঘাতী পদক্ষেপের বিরোধী। ৩০ বছর বয়সি স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আল-দামি মনে করেন, অকারণে নিজেকে বিপদে ফেলার কোনো মানে হয় না। তাঁর মতে, অনেকে সেউটায় ঢুকে পরে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসায় তাদের মনোবল একেবারে ভেঙে পড়েছে। আরেক স্থানীয় ব্যবসায়ী মুনির হামদুশ ও সমাজকর্মী মোহাম্মদ আজ্জুজ জানিয়েছেন, এই অভিবাসনপ্রবণতার কারণে ফনিদেকের পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা শহরটির রূপ ও পরিকাঠামোকেই বদলে দিয়েছে।