“ব্লিঙ্কিটের খারাপ টমেটোর জন্য মারত!” লখনউ খুনের মামলায় মুখ খুললেন মৃতার বোন, ফাঁস করলেন ভয়াবহ সব তথ্য

লখনউয়ের আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের রিলেশনশিপ ম্যানেজার দিব্যা মিশ্রের নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং তাঁর স্বামী মানস বাজপেয়ীর আত্মহত্যার ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। ঘটনার পর মানসের করা বিতর্কিত হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাস এবং তার জেরে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানাবিধ জল্পনার প্রেক্ষিতে অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন দিব্যার বোন তথা প্রখ্যাত সাংবাদিক প্রজ্ঞা মিশ্র। নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে একটি আবেগঘন ও মর্মস্পর্শী পোস্টে তিনি মানসকে সরাসরি ‘সাইকো কিলার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বিয়ের প্রথম রাতেই শুরু অশান্তি
প্রজ্ঞা জানিয়েছেন, মানসের এই মানসিক বিকার বিয়ের প্রথম রাত থেকেই শুরু হয়েছিল। ওই রাতেই মানস সংসার খরচের একটি তালিকা তৈরি করে দিব্যার কাছে তার অর্ধেক বহন করার দাবি জানিয়েছিল। প্রজ্ঞার দাবি, দিব্যা প্রথমে তা মেনে নিলেও, গত এক বছর ধরে ব্যক্তিগত কারণে সেই অর্থ দেওয়া বন্ধ করতেই মানস নিজেকে ‘প্রতারিত’ মনে করতে শুরু করে এবং দিব্যার ওপর অত্যাচার বাড়ায়।
তুচ্ছ বিষয়ে মারধর ও নৃশংসতার মাত্রা
মানসের মানসিক বিকার ও পারিবারিক হিংসার ভয়াবহ বর্ণনা দিয়েছেন প্রজ্ঞা। তিনি লিখেছেন, মানস এতটাই নিষ্ঠুর ছিল যে, ব্লিঙ্কিট (Blinkit) থেকে অর্ডার করা টমেটো ত্রুটিপূর্ণ হলে সে দিব্যাকে নির্মমভাবে মারধর করত। প্রজ্ঞা আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন যে, মানস ও তার বোন তুলিকা অতীতে তাদের অসুস্থ মাকেও এতটাই মারধর করেছিল যে শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার ভয় ও তবুও অটুট ভালোবাসা
প্রজ্ঞা জানিয়েছেন, মানস নিয়মিত দিব্যাকে অনুসরণ করত। ক্রমাগত মানসিক চাপের শিকার দিব্যা সম্প্রতি একটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে হাত-পা ভাঙেন। ঘটনার দিনও তিনি প্রচণ্ড ব্যথা নিয়েই কাজে বেরিয়েছিলেন। তবে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য দিব্যা মরিয়া ছিলেন। এমনকি নিজের হাতে থাকা মানসের নামের ট্যাটুটিও তিনি মোছেননি এবং ঘটনার দিনও হরতালিকা তীজের উপবাস পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই বেশি যে, দিব্যার অসুস্থ মাকে এখনও মেয়ের মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে কেবল জানানো হয়েছে যে, দিব্যার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রজ্ঞার এই পোস্ট লখনউ কাণ্ডের তদন্তে নতুন মোড় এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।