এবার সীমা অতিক্রম করলেন বেন-গেভির? ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞার মুখে ইসরায়েলি মন্ত্রী, কী বার্তা দিলেন জার্মান চ্যান্সেলর?

গাজা উপত্যকা নিয়ে ফের বিস্ফোরক ও উসকানিমূলক মন্তব্য করে আন্তর্জাতিক মহলে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গেভির। সম্প্রতি এক সভায় তিনি প্রকাশ্যে গাজায় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু ঠিক করে ‘টার্গেট কিলিং’ চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর এই মন্তব্যের জেরে শুধু নিন্দা নয়, বরং তাঁকে ইউরোপীয় দেশগুলোতে নিষিদ্ধ করার দাবিও জোরালো হয়েছে।
কী বলেছিলেন বেন-গেভির? সোমবারের এক জনসভায় বেন-গেভির নির্লজ্জভাবে হত্যার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি মনে করি গাজায় সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্য করে হত্যা চালানো উচিত। প্রতি রাতে ৩০ বা ৪০ জন ফিলিস্তিনিকে ‘সরিয়ে ফেলা’ উচিত।’’ এখানেই থামেননি তিনি। তাঁর মতে, গাজায় এমন মানুষও রয়েছে যাদের বেঁচে থাকার কোনো প্রাপ্যতাই নেই। কট্টরপন্থি এই মন্ত্রীর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
জার্মানিতে ক্ষোভের দাবানল বেন-গেভিরের এই উগ্র মন্তব্যের কড়া নিন্দা জানিয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বার্লিনের রাজনৈতিক মহলে এখন বেন-গেভিরকে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ বা অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করে জার্মানিতে তাঁর প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার দাবি উঠেছে।
জার্মান অর্থমন্ত্রী এবং এসপিডি নেতা লার্স ক্লিংবাইল জানিয়েছেন, ইউরোপীয় পর্যায়ে বেন-গেভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে আলোচনা চলছে। তাঁর কথায়, ‘‘ইসরায়েলের প্রতি আমাদের সংহতি অটুট থাকলেও, বেন-গেভিরের এই বাড়াবাড়ি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’’ এছাড়া গ্রিন পার্টি এবং ইহুদিদের কেন্দ্রীয় পরিষদও এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে। কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতি ইয়োসেফ শুস্টার এই আচরণকে ‘লজ্জাজনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করেছেন।
নিষেধাজ্ঞার তালিকায় নতুন দেশ? উল্লেখ্য, এর আগেও বেন-গেভিরের চরমপন্থী অবস্থানের কারণে অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, কানাডা, নিউজিল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলো তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। অর্থাৎ, এই দেশগুলোতে তিনি প্রবেশের অনুমতি পান না। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক চাপে জার্মানি সরকার ঠিক কতটা কড়া পদক্ষেপ নেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেন-গেভিরের মতো একজন মন্ত্রীর এ ধরনের মন্তব্য কেবল ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধেই সহিংসতা উসকে দিচ্ছে না, বরং ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিও ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে। বুন্ডেস্টাগের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক মুখপাত্র ইয়্যুর্গেন হার্ড্ট তো একধাপ এগিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন যে, ইসরায়েলের বর্তমান মন্ত্রিসভা থেকে বেন-গেভিরকে সরিয়ে দেওয়া উচিত, যাতে ইউরোপ ও ইসরায়েলের মধ্যে দূরত্ব কমানো সম্ভব হয়।