কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ! শ্রীনগরে দাঁড়িয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যে পাকিস্তানের কপালে চিন্তার ভাঁজ

৩৭০ ধারা বাতিলের পর জম্মু ও কাশ্মীরের চিত্র যে আমূল বদলেছে, তা এবার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে শুরু করেছে। শ্রীনগর সফররত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর-এর সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত এই শীর্ষ কূটনীতিক দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন, “কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ।” তাঁর এই বিবৃতি কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের দশকের পর দশক ধরে চলা অপপ্রচারের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে।

শ্রীনগর সফরকালে উপত্যকার সৌন্দর্য ও সেখানকার বর্তমান পরিস্থিতির ভূয়সী প্রশংসা করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, “এখানে আসতে পেরে আমি আনন্দিত। জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের একটি অবিচ্ছেদ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রথমবার এখানে এসে আমি অভিভূত ও রোমাঞ্চিত।” গোর-এর এই মন্তব্যকে শুধুমাত্র সৌজন্যমূলক হিসেবে দেখছেন না কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, বর্তমান বিশ্বশক্তিগুলো কাশ্মীরের বাস্তবতাকে এখন পুরোপুরি মেনে নিয়েছে।

এই বিবৃতি ইসলামাবাদের জন্য এক বড় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ধাক্কা। দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাশ্মীরকে একটি ‘বিতর্কিত বিষয়’ হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করে আসছে পাকিস্তান। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের এই স্পষ্ট অবস্থান তাদের সেই দাবিকে এক নিমেষে নস্যাৎ করে দিয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্যের পরই নড়েচড়ে বসেছে ইসলামাবাদ। কূটনৈতিক খবর অনুযায়ী, এর প্রতিবাদ জানাতে তারা মার্কিন কূটনীতিককে তলব পর্যন্ত করেছে, যা পাকিস্তানের গভীর হতাশা ও ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩৭০ ধারা বিলোপের পর কাশ্মীরে যে শান্তি, স্থায়িত্ব এবং উন্নয়নের জোয়ার এসেছে, তা বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত শুধু কাশ্মীরের ভূয়সী প্রশংসাই করেননি, বরং উপত্যকায় পর্যটন এবং মার্কিন নাগরিকদের ভ্রমণের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা বা সতর্কতা পর্যালোচনার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

ভারত-মার্কিন কৌশলগত অংশীদারিত্ব বর্তমানে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাণিজ্যিক, প্রযুক্তিগত এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক আজ আগের চেয়ে অনেক বেশি মজবুত। বিশ্ব কূটনীতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব আজ অনস্বীকার্য। কাশ্মীর যে ভারতের একান্তই অভ্যন্তরীণ বিষয়—সার্জিও গোর-এর এই সফর ও মন্তব্য সেই সত্যকে পুনরায় আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিষ্ঠিত করল বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *