কাজ কঠিন হোক বা সহজ, শানুর গান মাস্ট! বিহারের শ্রমিকের কাণ্ড দেখে তাজ্জব নেটদুনিয়া, ভিডিও ভাইরাল

নব্বইয়ের দশকের অতি জনপ্রিয় গায়ক কুমার শানুর জাদুকরী কণ্ঠের আবেদন আজও ফুরিয়ে যায়নি। শাহরুখ, সলমন, আমির থেকে শুরু করে অজয় দেবগণ—বলিউডের তাবড় তারকাদের লিপে তাঁর অসংখ্য গান আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। একদিনে সর্বাধিক গান রেকর্ডিংয়ের বিশ্বরেকর্ড গড়া এই কিংবদন্তি গায়কের জনপ্রিয়তা যে আজও সমাজের প্রতিটি স্তরে সমানভাবে বিদ্যমান, তার এক অনন্য প্রমাণ মিলল বিহারের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

টিভি ১ ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি বিহারের এক শ্রমিকের অদ্ভুত কাণ্ড ক্যামেরাবন্দি হয়েছে, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে গেছে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছে, বিহারের এক দিনমজুর কুমার শানুর গান না শুনে কাজে নামতেই স্পষ্ট অস্বীকৃতি জানান। অন্য কেউ গান চালিয়ে দেবে—এমনকি সেই অপেক্ষাতেও তিনি ছিলেন না। নিজেই একটি বড় স্পিকার বা সাউন্ড বক্স বয়ে নিয়ে সোজা কর্মক্ষেত্রে হাজির হন এবং পুরো কাজের পরিবেশকে এক নিমেষে নিজের ব্যক্তিগত গানের আসরে পরিণত করেন। এক পথচারী বা সহকর্মী এই অপ্রত্যাশিত দৃশ্যটি মোবাইলে বন্দি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করতেই তা ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়।

খোদ গায়ক কুমার শানু নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে এই ভিডিওটি শেয়ার করেছেন। এই ঘটনা স্পষ্ট করে দেয় যে, বলিউডের এই হিট গায়কের গান কেবল রোম্যান্টিক জুটির বা শহুরে মানুষের প্রিমিয়াম প্লেলিস্টেই বন্দি নেই; বরং বিহারের কোনো প্রান্তিক গ্রামের দিন আনা দিন খাওয়া খেটে খাওয়া মানুষের কাছেও শানুর গানই হলো জীবন সংগ্রামের আসল রসদ। ক্লান্তি দূর করে কাজের শক্তি জোগাতে এই গানগুলি যেন তাঁদের কাছে এক পরম প্রাপ্তি।

কাজের মাঝে ওই শ্রমিকের এমন গানপ্রীতি ও নিষ্ঠা দেখে নেটপাড়ার সাধারণ মানুষ যেমন হেসে কুটোপাটি খাচ্ছেন, তেমনই অনেকেই বেশ উপভোগ করেছেন পুরো বিষয়টি। অনেকে রসিকতা করে বলেছেন, কাজের দিন যতই কঠিন বা ক্লান্তিকর হোক না কেন, কুমার শানুর গান শোনা ছাড়া এই শ্রমিকের দিনটাই শুরু হয় না। আবার কেউ কেউ তাঁর এভাবে নিজে স্পিকার নিয়ে মাঠে আসার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে, এই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় যেমন হাসির খোরাক জুগিয়েছে, তেমনই সাধারণ মানুষের মনে এক অদ্ভুত ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *