গাছ হলুদ হলেই কি এপসম সল্ট দিচ্ছেন? অজান্তেই যে মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনছেন না তো!

বাগানপ্রেমীদের কাছে আজকাল অত্যন্ত পরিচিত একটি নাম হলো এপসম সল্ট। গাছের পাতা হঠাৎ হলুদ হয়ে যাওয়া কিংবা বৃদ্ধি থমকে গেলেই অনেকেই চটজলদি প্রতিকার হিসেবে এই নুনের কথা ভেবে বসেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সাধারণ রান্নার নুন নয়, বরং ম্যাগনেশিয়াম সালফেট। উদ্ভিদের ক্লোরোফিল তৈরিতে ম্যাগনেশিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও, না জেনে-বুঝে এটি ব্যবহার করলে লাভের চেয়ে বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, মাটিতে ম্যাগনেশিয়ামের প্রকৃত ঘাটতি থাকলেই কেবল এটি ব্যবহার করা উচিত। পাতার রং হলুদ হওয়ার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। তাই মাটিতে পর্যাপ্ত পুষ্টি উপাদান থাকার পরেও অতিরিক্ত এপসম সল্ট প্রয়োগ করলে গাছের পক্ষে ক্যালসিয়াম শোষণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। নিয়মিত বা নির্বিচারে ব্যবহারের আগে তাই মাটির পুষ্টি পরীক্ষা করে নেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

বিভিন্ন গাছে এর ব্যবহারেরও রয়েছে সুনির্দিষ্ট নিয়ম। যেমন—

টমেটো ও লঙ্কা গাছ: মাটিতে ঘাটতি থাকলে এটি ব্যবহার করা গেলেও, কেবল ফলন বাড়ানোর জন্য নিয়ম করে এটি দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

গোলাপ গাছ: নতুন গাছ লাগানোর সময় গর্তে বা পুরনো গাছের গোড়ায় নিয়ম করে এটি দেওয়ার কোনো সার্বজনীন প্রয়োজনীয়তা নেই।

ইনডোর প্ল্যান্ট: কিছু ক্ষেত্রে দুর্বল দ্রবণ বছরে দু’বার ব্যবহার করা গেলেও সমস্ত ঘরের গাছের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।

অন্যদিকে, মাটিতে আগে থেকেই ম্যাগনেশিয়াম পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকলে এই নুন যোগ করা থেকে বিরত থাকা উচিত। এছাড়া এপসম সল্টের ঘন দ্রবণ সরাসরি পাতায় স্প্রে করলে পাতা পুড়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। তাই এপসম সল্টকে গাছের কোনো ‘ম্যাজিক সার’ না ভেবে, কেবল নির্দিষ্ট ঘাটতি পূরণের একটি মাধ্যম হিসেবে দেখাই শ্রেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *