সিজারের পর পেটের ভেতর রয়ে গেল গ্লাভস ও ন্যাপকিন! চিকিৎসকদের চরম গাফিলতিতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন সদ্য মা!

সিজারিয়ান অপারেশনের পর চিকিৎসকদের চরম গাফিলতির জেরে এক প্রসূতির পেটের ভেতর গ্লাভস ও পেপার ন্যাপকিন আটকে থাকার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল। ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের বীড জেলা হাসপাতালে। বর্তমানে ১৯ বছরের ওই সদ্য মা, সন্ধ্যা সুরজ গায়কোয়াড়, অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় পুনের সাসুন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১ অগস্ট প্রসবের জন্য সন্ধ্যাদেবীকে বীড জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁর সফলভাবে সিজার অপারেশন হওয়ার চার দিন পর তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বাড়ি ফেরার পরেই তাঁর পেটে তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে স্থানীয় এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানান যে, ওই তরুণীর পেটের ভেতর একটি ‘অজানা বস্তু’ রয়েছে।

এরপর চিকিৎসার জন্য তাঁকে পুনেতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, প্রথমে একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলেও সেখানে চিকিৎসার খরচ অনেক বেশি হতে পারে বলে জানানো হয়। পরবর্তীতে অন্য একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে রোগীর অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর থাকায় চিকিৎসকরা তাঁকে ভর্তি করতে অস্বীকার করেন। শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যাকে পুনের সাসুন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সন্ধ্যার মা জানান, সিজারের পর থেকেই তাঁর মেয়ের লাগাতার বমি হচ্ছিল। বিষয়টি তাঁরা বীড জেলা হাসপাতালের এক নার্সকে জানালেও সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বর্তমানে সন্ধ্যার শারীরিক অবস্থা এতটাই আশঙ্কাজনক যে, তিনি নিজের সদ্যোজাত সন্তানকে কোলে তুলে নেওয়ার শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলেছেন। রোগীর স্বামী সুরজ গায়কোয়াড় সরাসরি চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ইতিমধ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে জেলা প্রশাসন উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। অস্ত্রোপচারের দায়িত্বে থাকা মহিলা চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছে। বীডের জেলা সার্জন ডক্টর সতীশকুমার সোলাঙ্কে জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিজারের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচারের পর কীভাবে চিকিৎসাগত সামগ্রী রোগীর পেটের ভেতরে থেকে গেল, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দানা বেঁধেছে সাধারণ মানুষের মনে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *