স্বচ্ছল হয়েও তুলছেন ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর টাকা? ধরিয়ে দিন সহজেই, বন্ধ হবে অনুদান!

রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর সুবিধা পেতে অনেকেই আবেদন করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, সত্যিই কি সঠিক ও প্রকৃত প্রাপকদের কাছেই পৌঁছাচ্ছে এই সাহায্য? আর্থিক দিক থেকে স্বচ্ছল ও স্বাবলম্বী হওয়ার পরেও এমন অনেক ব্যক্তি কি এই প্রকল্পের টাকা তুলছেন, যাঁদের তা পাওয়ার কথা নয়? এই সমস্ত অযোগ্য ও ভুয়া উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতে এবং তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে এবার এক অভিনব ও সহজ উপায় নিয়ে এল রাজ্য প্রশাসন। এখন থেকে খুব সহজেই অভিযোগ জানিয়ে এই ধরনের অযোগ্য ব্যক্তিদের সরকারি অনুদান বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব।
মুখ্যমন্ত্রী আগেই স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন যে, ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সমস্ত কাজ স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালনা করার জন্য একটি পৃথক পোর্টাল চালু করা হয়েছে। এবার সেই পোর্টালেই যুক্ত করা হয়েছে একটি বিশেষ ফিচার, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষও সরাসরি অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে পারবেন। যদি আপনার আশপাশে এমন কেউ থেকে থাকেন, যিনি আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও এই প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করছেন, তবে আপনি নিজেই পোর্টালে গিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আপত্তি জানাতে পারবেন।
কীভাবে জানাবেন অভিযোগ?
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ নাগরিকরা ঘরে বসেই অনলাইনে অভিযোগ জানাতে পারবেন। এর জন্য আপনাকে কয়েকটি সহজ ধাপ অনুসরণ করতে হবে:
সবার প্রথমে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর নির্দিষ্ট সিটিজেন পোর্টালে লগইন করতে হবে।
পোর্টালে প্রবেশ করার পর ‘অবজেকশন অ্যান্ড ক্লেইম’ (Objection and Claim) নামের অপশনটি দেখতে পাবেন।
সেখানে ক্লিক করলে দুটি আলাদা বিকল্প বা অপশন সামনে আসবে—একটি হলো ‘ক্লেইম বাই অ্যাপ্লিকেন্ট’ এবং অন্যটি ‘অবজেকশন এগেইনস্ট সামওয়ান’ (Objection against someone)।
অযোগ্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর জন্য দ্বিতীয় অপশনটি বেছে নিতে হবে।
এরপর অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম, মোবাইল নম্বর, বাবার নাম এবং এলাকার সঠিক তথ্য দিতে হবে।
সমস্ত তথ্য দেওয়ার পর আরও কিছু সাব-অপশন আসবে, যেখানে নির্দিষ্ট করে কারণ দেখাতে হবে যে আপনি ঠিক কোন কারণে বা কী অভিযোগে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আপত্তি জানাচ্ছেন।
সঠিক কারণটি সিলেক্ট করে ‘সাবমিট’ করলেই আপনার অভিযোগ রেজিস্টার্ড হয়ে যাবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে ওই অযোগ্য ব্যক্তির ভাতার টাকা চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
সরকারের এই কড়া পদক্ষেপের ফলে যেমন একদিকে ভুয়া উপভোক্তাদের ছাঁটাই করা সহজ হবে, তেমনই অন্যদিকে প্রকৃত ও দরিদ্র মানুষ সঠিক সময়ে তাঁদের প্রাপ্য সাহায্য সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে হাতে পাবেন।