কাঠ ভিজে একাকার, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা! গঙ্গার জলস্তর হু হু করে বাড়ায় চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

পাহাড়ি এলাকায় একটানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং বিভিন্ন উপনদীতে জলস্তর বৃদ্ধির জেরে সরাসরি প্রভাব পড়েছে গঙ্গায়। বারাণসীতে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বাড়ছে গঙ্গার জলস্তর। প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ২টো পর্যন্ত গঙ্গার জলস্তর রেকর্ড করা হয়েছে ৬৭.৪ মিটার। যার অর্থ, নদীটি এবার বিপজ্জনকভাবে সতর্কীকরণ স্তর অর্থাৎ ৭১.২ মিটারের দিকে এগিয়ে চলেছে। জলের এই আকস্মিক বৃদ্ধিতে বারাণসীর উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে তীব্র চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ঘাট, ছাদেই চলছে দাহকার্য
জলস্তর ক্রমাগত বেড়ে যাওয়ায় গঙ্গার তীরবর্তী সমস্ত ঘাটের সঙ্গে মূল শহরের যোগাযোগ একপ্রকার বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এর ফলে সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে মণিকর্ণিকা ও হরিশচন্দ্র ঘাটে। ঘাটের নিচের অংশ ও বেদিগুলি সম্পূর্ণ জলের নিচে চলে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে মৃতদেহ দাহ করার জন্য ছাদ বেছে নিতে হয়েছে স্থানীয়দের। মণিকর্ণিকা ঘাট থেকে অন্যান্য ঘাটে যাতায়াতের রাস্তাগুলিও জলের নিচে তলিয়ে গেছে। এমনকি বিখ্যাত বাবা মাসাননাথ মন্দিরের অর্ধেক অংশ ইতিমধ্যেই জলের গ্রাসে চলে গেছে। পাশাপাশি, গঙ্গার জল ঢুকে কাঠের স্তূপ ভিজে যাওয়ায় সৎকার কাজের জন্য আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে।
গাজিপুর থেকে শবদাহ করতে আসা এক স্বজন বিজয় উপাধ্যায় জানান, সৎকার করার জন্য তাঁকে গত চার ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করতে হয়েছে। ছাদে জায়গার মারাত্মক সংকটের কারণে মৃতদেহগুলি বর্তমানে সারিবদ্ধভাবে রাখতে হচ্ছে। অন্যদিকে, কাঠ ব্যবসায়ী অজয় ভারতী জানিয়েছেন যে, শবযাত্রার পাশাপাশি কৌতূহলী দর্শনার্থী ও আলোকচিত্রীরাও ছাদে ভিড় করায় পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটছে। সিন্ধিয়া ঘাটের ঐতিহাসিক রত্নেশ্বর মহাদেব মন্দির এবং দত্তাত্রেয় চরণ পাদুকা মন্দির আখাড়াও এখন পুরোপুরি গঙ্গার জলের নিচে তলিয়ে রয়েছে।
প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও সতর্কতা
তীর্থযাত্রী পুরোহিত নির্মেশ দ্বিবেদী জানান, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে মণিকর্ণিকা ঘাটে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ থেকে ২০০টি শবদাহ সম্পন্ন হয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এই কাজ চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গঙ্গায় সমস্ত ধরনের নৌকা চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
যেকোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সমস্ত বিভাগকে নিয়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। ঘাটগুলিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পুলিশ এবং এনডিআরএফ (NDRF)-এর দল মোতায়েন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও ভক্তদের গঙ্গার তীরবর্তী এলাকা সম্পূর্ণ এড়িয়ে নিরাপদ স্থানে থাকার অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন।