রেল যাত্রায় ঐতিহাসিক বিপ্লব! ৯,৪৫০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পে সবুজ সঙ্কেত দিল কেন্দ্র, কোন রাজ্যগুলিতে কপাল খুলছে?

ভারতীয় রেলের পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী এবং আধুনিক করে তুলতে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিটি (CCEA) দেশের চার রাজ্যে প্রায় ৯,৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি মেগা রেল প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন রেলপথে যাতায়াতের সময় কমবে এবং যাত্রীদের ভোগান্তি দূর হবে, তেমনই পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এক বিরাট বিপ্লব আসতে চলেছে।
কোন কোন প্রকল্পের অনুমোদন মিলল?
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই চারটি নতুন ও সম্প্রসারিত রেল প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ু জুড়ে বিস্তৃত। প্রকল্পগুলি হলো:
-
খড়্গপুর-ভদ্রক (রানিটাল) চতুর্থ লাইন: ১৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটটি পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার ওপর দিয়ে বিস্তৃত।
-
ভদ্রক-হরিদাসপুর চতুর্থ লাইন: ওড়িশার মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন।
-
গুম্মিদিপুন্ডি-গুডুর তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন: ৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটটি অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুকে যুক্ত করবে।
-
কটক-পারাদ্বীপ (বাদাবান্ধা) তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন: ওড়িশার অভ্যন্তরে ৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ রুট।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই প্রকল্পগুলির বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, খড়্গপুর থেকে বালেশ্বর ও রুপসা হয়ে ভদ্রক পর্যন্ত ১৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মেগা লাইনে মোট দুটি বিশাল ব্রিজ, ৪১টি বড় ব্রিজ এবং ১৬৯টি ছোট ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। এর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩,৩৫২ কোটি টাকা।
কীভাবে উপকৃত হবে সাধারণ মানুষ?
এই চারটি প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ভারতীয় রেলের নেটওয়ার্ক প্রায় ৪১০ কিলোমিটার বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, তামিলনাড়ু এবং অন্ধ্রপ্রদেশের ৮টি জেলার প্রায় ৬,৪৪৮টি গ্রামের প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। পাশাপাশি, কুলডিহা ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি, ভিতরকণিকা ন্যাশনাল পার্ক, চাঁদিপুর বিচ, পুলিকট লেক এবং ললিতগিরির মতো একাধিক বিখ্যাত পর্যটন ও তীর্থক্ষেত্রের সঙ্গে রেল যোগাযোগ আগের চেয়ে অনেক বেশি সুগম হবে।
পণ্য পরিবহন ও পরিবেশ রক্ষায় বড় পদক্ষেপ
পিএম-গতি শক্তি ন্যাশনাল মাস্টার প্ল্যানের অধীনে তৈরি এই মাল্টি-ট্র্যাকিং প্রকল্পগুলি লজিস্টিকস খরচ কমাতে এবং মাল্টি-মোডাল কানেক্টিভিটি বাড়াতে দারুণ ভূমিকা নেবে। কয়লা, লৌহ আকরিক, সিমেন্ট, ইস্পাত ও খাদ্যশস্যের মতো জরুরি পণ্য পরিবহনে লাইনের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বছরে অতিরিক্ত ৭৬ মিলিয়ন টন পণ্য পরিবহন সম্ভব হবে।
পরিবেশবান্ধব এই উদ্যোগের ফলে লজিস্টিকস খরচ হ্রাসের পাশাপাশি বছরে প্রায় ১৩ কোটি লিটার তেল আমদানি কমবে। একই সঙ্গে প্রায় ৬৫ কোটি কেজি কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন হ্রাস পাবে, যা আনুমানিক ২.৬০ কোটি নতুন গাছ লাগানোর সমতুল্য। প্রধানমন্ত্রীর ‘নতুন ভারত’ গড়ার ভাবনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এই প্রকল্পগুলি সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।