অনলাইন থেকে হুবহু প্রশ্ন তুলে পরীক্ষা! কেরল পিএসসি-র মেগা দুর্নীতিতে গ্রেফতার দুই বড় আধিকারিক!

দেশের অন্যতম স্বনামধন্য নিয়োগকারী সংস্থাগুলির কার্যপ্রণালী নিয়ে ফের উঠল বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ। কেরালা পাবলিক সার্ভিস কমিশন (Kerala PSC)-এর বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়মিততা ও কারচুপির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর তদন্তের জাল আরও গুটিয়ে ফেলেছে তদন্তকারী দল। বিশেষ করে সহকারী মোটর ভেহিক্যাল ইন্সপেক্টর পরীক্ষায় অনলাইন স্টাডি মেটেরিয়াল থেকে হুবহু প্রশ্ন তুলে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এবং খাতা মূল্যায়নে গুরুতর ত্রুটির জেরে শোরগোল পড়ে গেছে গোটা দক্ষিণ ভারতে।
অনলাইন স্টাডি মেটেরিয়াল থেকে হুবহু প্রশ্ন!
আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর্নাকুলাম জেলার পেরুম্বাভুরের বাসিন্দা রাহুল রাজের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার কেরালা পিএসসি-র অজ্ঞাতপরিচয় আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে।
এফআইআর (FIR)-এ দাবি করা হয়েছে যে, সহকারী মোটর ভেহিক্যাল ইন্সপেক্টর (AMVI) পদের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের মোট ৪৫টি প্রশ্ন সরাসরি ‘স্ক্যামভেদা’ (Scamvede) এবং ‘Sanfoundry.com’ এর মতো অনলাইন স্টাডি প্ল্যাটফর্ম থেকে একেবারে হুবহু কপি করে দেওয়া হয়েছিল!
অযোগ্য প্রার্থীর নির্বাচন ও নিয়মে কারচুপি
শুধু প্রশ্ন চুরিয়েই শেষ নয়, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একাধিক গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছে অভিযোগকারী:
নির্ধারিত শারীরিক মাপকাঠি বা শারীরিক মান পূরণ না করা সত্ত্বেও বহু অযোগ্য প্রার্থীকে সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ।
আবেদনের শেষ তারিখ পার হয়ে যাওয়ার পরেও যোগ্যতার মাপকাঠিতে নিয়মনীতি বদল করা।
এর ফলে গত ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত মেধা তালিকায় (Rank List) একাধিক অযোগ্য প্রার্থী সুযোগ পেয়ে যান এবং হাজার হাজার প্রকৃত যোগ্য ও মেধাবী চাকরিপ্রার্থী তাঁদের ন্যায্য অধিকার ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এই পুরো কেলেঙ্কারিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং দুর্নীতি নিবারণ আইনের বিভিন্ন কড়া ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মৎস্য বিভাগ ও রাজ্য পরিকল্পনা বোর্ডেও দুর্নীতির জাল
তদন্তের পরিধি বাড়াতে গিয়ে কেরল পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) দেখতে পেয়েছে যে দুর্নীতি কেবল একটি পরীক্ষায় সীমাবদ্ধ নয়:
মৎস্য বিভাগ (Fisheries Department): মৎস্য এক্সটেনশন অফিসার পদে ২০২০ সালের অগাস্টের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ২৮ নভেম্বর ২০২২-এ প্রকাশিত র্যাংক লিস্টে কিছু বিশেষ প্রার্থীকে বেআইনিভাবে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় স্বয়ং পিএসসি-র সভাপতি, সদস্য ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
খাদি বোর্ড ও গ্রাম তেল ইন্সপেক্টর: এই দুই দপ্তরের পরীক্ষাতেও বড়সড় অনিয়মের প্রমাণ মেলায় তদন্ত শুরু হয়েছে।
রাজ্য পরিকল্পনা বোর্ড (State Planning Board): এই বোর্ডের একটি পরীক্ষার ক্ষেত্রে ‘অন-স্ক্রিন মার্কিং’ (OSM) সিস্টেমে মারাত্মক গোলমাল ধরা পড়ে। অর্থনীতি বিষয়ের ১০টি বর্ণনামূলক প্রশ্নের মোট ৫৮ নম্বর সঠিক পরীক্ষার্থীদের দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে বা প্রতিবাদের মুখে খাতা পুনর্মূল্যায়ন (Re-evaluation) করা হলে দেখা যায়, আগে যিনি তৃতীয় স্থানে ছিলেন (শ্যাম কৃষ্ণ), তিনি প্রথম স্থানে উঠে এসেছেন! অন্যদিকে, আগে প্রথম স্থানে থাকা অরুণ জে প্রদীপ নেমে চলে গেছেন পঞ্চম স্থানে।
দুই আধিকারিক গ্রেফতার, জিজ্ঞাসাবাদ চলছে শীর্ষকর্তাদের
রাজ্য সরকারের নির্দেশে গঠিত ক্রাইম ব্রাঞ্চের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) ইতিমধ্যেই এই মেগা কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে পিএসসি-র দুই সরকারি আধিকারিককে গ্রেফতার করেছে। পাশাপাশি, কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান এম.আর. বাইজু (MR Baiju) এবং অন্য সদস্যদের মুখোমুখি বসিয়ে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হয়েছে। একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসায় কেরলের চাকরি মহলে চরম অসন্তোষ ও রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।