মরাষ্ট্রমন্ত্রীদের ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ মুখ্যমন্ত্রীর! নিয়ম বদলে কোন ঐতিহাসিক ক্ষমতা হাতে নিলেন একনাথ শিণ্ডে বা বর্তমান সরকার?

মহারাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা ও প্রশাসনিক পরিচালনায় এক সুদূরপ্রসারী ও বড়সড় পরিবর্তন আনল সরকার। সাধারণ প্রশাসন বিভাগের পক্ষ থেকে সম্প্রতি সংশোধিত ‘মহারাষ্ট্র সরকারি কার্যবিধি, ২০২৬’ (Maharashtra Government Rules of Business) জারি করা হয়েছে। নতুন এই বিধিমালা কার্যকর হওয়ার ফলে রাজ্য সরকারের অন্দরে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব আরও অনেক বেশি স্পষ্ট ও শক্তিশালী করা হয়েছে।
মন্ত্রীদের সিদ্ধান্তে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও লিখিত কারণ
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জনস্বার্থের স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রী এখন থেকে যেকোনো মন্ত্রীর নেওয়া সিদ্ধান্ত সংশোধন বা প্রয়োজনবোধে সম্পূর্ণ বাতিল করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে একটি বিশেষ শর্ত রাখা হয়েছে—যদি মুখ্যমন্ত্রী কোনো মন্ত্রীর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন, তবে তাঁকে সেই পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কারণ অবশ্যই লিখিতভাবে জানাতে হবে। তবে পরিষ্কার করা হয়েছে যে, আধা-বিচারিক (Quasi-judicial) বিষয়গুলির ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর এই বিশেষ ক্ষমতা প্রযোজ্য হবে না।
শুধু তাই নয়, নতুন নিয়মের বলে মুখ্যমন্ত্রী এখন রাজ্যের যেকোনো বিভাগ থেকে যেকোনো ফাইল বা গুরুত্বপূর্ণ নথি তলব করতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং বিভাগীয় সচিব সেই নথিগুলি সরবরাহ করতে বাধ্য থাকবেন। একই সঙ্গে প্রশাসনিক স্তরে মুখ্য সচিবকেও (Chief Secretary) বিভিন্ন বিভাগ থেকে তথ্য ও নথি তলব করার পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক কোনো নিয়ম বা আইনের ব্যাখ্যা নিয়ে কোনো বিরোধ বা বিভ্রান্তি তৈরি হলে, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিষয়টি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে।
আর্থিক সিদ্ধান্ত ও নীতিগত কড়াকড়ি
রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আর্থিক বিষয়গুলিতেও আনা হয়েছে কড়া নিয়ম। যে সমস্ত সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের উপর বাড়তি আর্থিক বোঝা তৈরি হতে পারে কিংবা সরকারি রাজস্ব হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেগুলির জন্য আবশ্যিকভাবে অর্থ বিভাগ থেকে পূর্বানুমোদন নিতে হবে। এছাড়া ভূমি, রাজস্ব, খনিজ এবং বন অধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন অব্যাহতি, ইজারা বা লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট ও কঠোর পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি, নতুন কোনো আইন প্রণয়ন, বিদ্যমান আইনের সংশোধন বা প্রবিধান তৈরির ক্ষেত্রে সেই খসড়াটি পর্যালোচনার জন্য আইন ও বিচার বিভাগে জমা দিতে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
যদি সরকারের কোনো সিদ্ধান্তের জেরে কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে কিংবা অন্য কোনো রাজ্যের সঙ্গে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বিরোধ সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে, তবে সেই বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপালকে অবহিত করতে হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী সরকার প্রয়োজনে মুখ্য সচিব বা অতিরিক্ত মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটিও গঠন করতে পারে।
২০২২ সালের হাইকোর্টের রায় ও পটপরিবর্তন
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই নিয়মের নেপথ্যে রয়েছে অতীতে ঘটে যাওয়া আইনি লড়াইয়ের ইতিহাস। ২০২২ সালে মন্ত্রীদের একক সিদ্ধান্তে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের আইনি অধিকার নিয়ে একটি মামলা দ是對 তৈরি হয়েছিল। বোম্বে হাইকোর্টের নাগপুর বেঞ্চ চন্দ্রপুর জেলা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়োগ সংক্রান্ত তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিণ্ডের একটি সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে রায় দিয়েছিল যে, মন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ বা তা বদলানোর সাংবিধানিক কর্তৃত্ব মুখ্যমন্ত্রীর নেই।
হাইকোর্টের সেই রায়ের পর এবার আইনি ফাঁকফোকড় ও জটিলতা দূর করতে কার্যবিধি সংশোধন করে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতাকে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিল প্রশাসন।