বিকল্প উপায়ে মামলার জট কাটানোর বার্তা! কেরালায় আধুনিক আদালতের উদ্বোধনে আর কী বললেন প্রধান বিচারপতি?

ছোট শহর এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত ও সহজলভ্য ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল দেশ। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত মঙ্গলবার অনলাইনে কেরালার ত্রিশূর জেলার ইরিঞ্জালাকুড়া এবং চাভাক্কাড়ে দুটি অত্যাধুনিক নতুন আদালত কমপ্লেক্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। কেরালা রাজ্যের কিছু অংশে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রধান বিচারপতি সশরীরে সেখানে উপস্থিত হতে পারেননি, তবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই ঐতিহাসিক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। সশরীরে উপস্থিত হতে না পারার জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করার পাশাপাশি তিনি বন্যাদুর্গত মানুষের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তাঁদের নিরাপত্তা, সাহস ও দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

১০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প ও পরিকাঠামো
কেরালা সরকার ও হাইকোর্ট প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এবং সম্পূর্ণ রাজ্য সরকারের অর্থায়নে নির্মিত এই দুটি আদালত কমপ্লেক্সের পেছনে মোট ১০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। বিচারিক পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার এই প্রচেষ্টার জন্য রাজ্য সরকার এবং হাইকোর্ট প্রশাসনকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।

নতুন এই প্রকল্পগুলির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত জানান যে, এই কমপ্লেক্সগুলি কেবল কিছু নতুন ভবন বা ইট-পাথরের কাঠামেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মেট্রো শহরগুলির বাইরে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের কাছে বিচার ব্যবস্থাকে আরও বেশি সহজলভ্য করে তোলার একটি আন্তরিক প্রয়াস। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষদের বিচার পাওয়ার জন্য দীর্ঘ পথ ভ্রমণ বা অপ্রয়োজনীয় অসুবিধার মুখোমুখি হওয়া উচিত নয় বলেই মন্তব্য করেন তিনি।

মামলার চাপ ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর জোর
বর্তমানে বিচার ব্যবস্থার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের কথা তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন যে, ওই জেলাটিতে এই মুহূর্তে প্রায় ৩০,০০০ দেওয়ানি মামলা এবং ১ লক্ষেরও বেশি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সেগুলির ক্রমবর্ধমান জটিলতাই আধুনিক বিচারিক পরিকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে।

আদালতের গতানুগতিক বিচার প্রক্রিয়ার ওপর চাপ কমাতে তিনি বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তিমূলক পদ্ধতি বা মধ্যস্থতার (Mediation) ওপর বিশেষ জোর দেন। নতুন এই কমপ্লেক্সগুলিতে একটি ডেডিকেটেড মধ্যস্থতা হলের উপস্থিতি সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে বিবাদ মেটানোর প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকারকেই তুলে ধরে। এছাড়া সংবেদনশীল পারিবারিক মামলাগুলির ক্ষেত্রে গোপনীয়তা ও সম্মান বজায় রাখতে আলাদা কেবিনযুক্ত পরামর্শ কক্ষ এবং নারী আইনজীবীদের কাজের সুবিধার্থে একটি পৃথক হলের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যা বিচার ব্যবস্থায় নারী শক্তির ক্রমবর্ধমান অবদানকে সম্মান জানায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *