প্রেমিক নাকি মানসিক অত্যাচারী? প্রাক্তনের কদর্য নির্যাতনের কথা ফাঁস করে দিলেন জনপ্রিয় দক্ষিণী অভিনেত্রী!

প্রেমের সম্পর্কের মোড়কে লুকিয়ে থাকা এক অন্ধকার দিক এবং লাগাতার মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার রোমহর্ষক অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার প্রকাশ্যে মুখ খুললেন জনপ্রিয় দক্ষিণী অভিনেত্রী অনুপমা পরমেশ্বরন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের এক বিষাক্ত ও অত্যন্ত নিয়ন্ত্রণকারী সম্পর্ক নিয়ে এমন কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য শেয়ার করেছেন, যা শোনার পর স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছেন তাঁর অগণিত অনুরাগীরা। নাম সরাসরি প্রকাশ না করলেও, প্রাক্তনের বিরুদ্ধে একাধারে মানসিক হেনস্থা ও নার্সিসিস্ট আচরণের বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন এই অভিনেত্রী।
পিরিয়ডস থেকে নারীসত্তা নিয়ে অপমান
ওই দীর্ঘ ও খোলামেলা কথোপকথনে অনুপমা জানান, তাঁর প্রাক্তন প্রেমিক তাঁকে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে অপমান করতেন এবং পরিকল্পিতভাবে তাঁর আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করতেন। এমনকী একসময় তাঁকে এমন এক মানসিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল, যেখানে তাঁকে নিজের নারীত্ব এবং পেশা নিয়ে পর্যন্ত লজ্জিত বোধ করানো হতো।
অভিনেত্রীর কথায়, “আমি এমন এক পরিস্থিতিতে ছিলাম যেখানে অভিনেত্রী হওয়া নিয়ে আমার লজ্জা হতো। আমি আত্মবিশ্বাসী হওয়া নিয়ে লজ্জিত বোধ করতাম। এমনকি আমার পিরিয়ডস হওয়া এবং একজন নারী হওয়া নিয়েও আমাকে লজ্জায় ফেলা হতো।” তিনি ব্যাখ্যা করে জানান, তাঁর ঋতুস্রাবের চক্রের দিনগুলিকেও তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতো। কাজের জায়গায় কোনো মতপার্থক্য ঘটলেই প্রাক্তনের পক্ষ থেকে কটূক্তি করা হতো যে, তিনি নাকি ‘পিএমএস’ (প্রি-মেনস্ট্রুয়াল সিন্ড্রোম)-এর মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। এই ক্রমাগত মানসিক অত্যাচারের কারণে একসময় নিজের নারীসত্তাকেই তাঁর অভিশপ্ত বলে মনে হতে শুরু করেছিল।
বদলে গিয়েছে জীবনের সমীকরণ
একসময় যে অভিনেত্রী মনে মনে একসঙ্গে অনেকগুলো সন্তান নেওয়ার স্বপ্ন দেখতেন, প্রাক্তনের এই বিষাক্ত আচরণের জেরে আজ তাঁর ভাবনাচিন্তা সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। অনুপমার পরিষ্কার বার্তা, এই ধরনের চরম মানসিক চাপের পর তিনি আর কোনো শিশুই নিজের জীবনে চান না। শুধু তাই নয়, নিজের কেরিয়ারের সাফল্য ও অর্জন নিয়ে তাঁর মনে অপরাধবোধ তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ দু’বছর ধরে চলা এই জবরদস্তিমূলক সম্পর্কের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসার পর তিনি বুঝতে পেরেছেন যে, কীভাবে তাঁর পোশাক-আশাক থেকে শুরু করে কাজের জগৎ—সবকিছুকেই নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হচ্ছিল।
সাক্ষাৎকারে অনুপমা আরও জানান, প্রাক্তনের তরফে আসা এই প্রবল মানসিক চাপের কারণেই তিনি বাধ্য হয়ে একটি ছবির প্রচার থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছিলেন। এমনকি তাঁকে জোর করে বাগদান ও বিয়ের জন্যও প্রবল চাপ দেওয়া হতো, যা তিনি কোনোমতে আঁচ করতে পেরে প্রতিবারই পিছিয়ে এসেছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ফিরে এসে অনুপমার এই সাহসী ও অকপট স্বীকারোক্তি বিনোদন জগতে এক বিরাট আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সম্পর্কের নামে মানসিক নির্যাতন ও বিষাক্ত সঙ্গীর খপ্পরে পড়ার এই মর্মান্তিক গল্প আজ বহু নারীর বাস্তব জীবনের সঙ্গেই মিলে যায়, যা সমাজের এক কঠিন সত্যকে ফের আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।