আইএসআই গুপ্তচর চক্রে বড় ধাক্কা! রিষড়া থেকে ধৃত পাক এজেন্টের আরও এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী

পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর হয়ে কাজ করার অভিযোগে ধৃত ভুয়ো পাক নাগরিক রানা রউফের তদন্তে সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। রানার অন্যতম সহযোগী জাফর শাম ওরফে সানিকে হুগলির রিষড়া থেকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, পুলিশি ধরপাকড় শুরু হতেই কলকাতার তপসিয়ার বাসিন্দা সানি রিষড়ায় গিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন। রানার সঙ্গে তাঁর ঠিক কী যোগ ছিল এবং এই গুপ্তচর নেটওয়ার্কে তিনি কী দায়িত্ব পালন করতেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
হাবড়ার রানার জালে কীভাবে এল সানি?
স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগে গত ১২ অগস্ট উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া থেকে রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলমকে গ্রেফতার করেছিল এসটিএফ। তদন্তে উঠে আসে, কাঠমান্ডু হয়ে ভুয়ো পরিচয় দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে রানা কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামের ছবি, ভিডিয়ো, মানচিত্র এবং সীমান্ত এলাকায় সেনা ও বিএসএফের গতিবিধি সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছিলেন।
রানা গ্রেফতার হওয়ার পরেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে শুরু করে। জানা যায়, রানাকে কাঠমান্ডু হয়ে কলকাতায় নিয়ে আসা এবং ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরিতে সাহায্য করেছিলেন তপসিয়ার বাসিন্দা ইমরান। রানার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের অভিযোগে এর আগে ইজাজ আলিকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। এবার সেই তপসিয়া যোগ ধরেই রিষড়ায় অভিযান চালিয়ে সানিকে পাকড়াও করল এসটিএফ। তাঁকে জেরা করে এই আন্তর্জাতিক চক্রের আরও গভীরে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।
আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও ডায়েরির রহস্য
এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেফতারের ঠিক আগে নিজের মোবাইল ফোনটি নষ্ট করে দিয়েছিলেন রানা। তবে তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ডায়েরি তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। ওই ডায়েরিতে নেপাল, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলঙ্কার একাধিক সন্দেহজনক ফোন নম্বর পাওয়া গিয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে এও জানা গেছে যে, গ্রেফতারের পর পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার জোরালো ছক কষেছিলেন রানা। সীমান্তের ওপারে পাভেল নামে তাঁর এক সহযোগীও অপেক্ষা করছিল বলে জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা। বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশে রানার কোনো বৃহত্তর মডিউল বা নেটওয়ার্ক তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সানির গ্রেফতারির পর এই মামলায় ধৃতের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চার। এই চক্রের বাকি শেকড় কতদূর বিস্তৃত, সেটাই এখন খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন এসটিএফের আধিকারিকরা।