মাঝরাতে বেঘোরে ঝরে গেল ৯টি তাজা প্রাণ! নিউ মার্কেটের হোটেলের অন্দরে কোন ভয়ংকর ছবি ফাঁস করলেন পুরমন্ত্রী?

মধ্যরাতে ঘুমের মধ্যেই ঘটে গেল এক মর্মান্তিক বিপর্যয়। কলকাতার নিউ মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় একটি হোটেলে বিধ্বংসী আগুন লাগার ঘটনায় শিশু-সহ মোট নয়জনের প্রাণহানির খবর সামনে এসেছে। এই ঘটনায় যেমন শোকের ছায়া নেমে এসেছে, তেমনই শহরের হোটেলগুলির নিরাপত্তা ও আইনি বৈধতা নিয়ে এক হাজার একটা প্রশ্ন জোরালো হয়ে উঠেছে। কীভাবে জনবহুল ও সংবেদনশীল এই চত্বরে একের পর এক বেআইনি হোটেল মাথাচাড়া দিয়ে উঠল এবং কেনই বা বহু জায়গায় ফায়ার অ্যালার্ম বা লিফটের মতো জরুরি ব্যবস্থা সঠিকভাবে কাজ করছিল না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গিয়েছে, মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় মৃতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন মহিলা এবং একটি শিশু রয়েছে। এছাড়া মৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিক থাকতে পারেন বলেও প্রাথমিক অনুমান করা হচ্ছে, যা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পুরমন্ত্রী, কাঠগড়ায় সিইএসসি
ঘটনার খবর পেয়েই তৎক্ষণাৎ এলাকা পরিদর্শনে যান পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। মন্ত্রী জানান, তিন-চার তলার একটি বিল্ডিংয়ের মধ্যে প্রায় দশটি গেস্ট হাউস চালানো হচ্ছিল। রাতের অন্ধকারে বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব না হলেও পুলিশ ও দমকল কর্মীদের তৎপরতায় প্রায় ৮০ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
তবে এই অবৈধ কারবারের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের তীব্র আক্রমণ করে পুরমন্ত্রী সরাসরি বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা সিইএসসি (CESC)-কে দায়ী করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, একটি এসি চালানোর অনুমতি নিয়ে কীভাবে একই জায়গায় দশটি এসি চালানো হচ্ছে এবং কোন যুক্তিতে সিইএসসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এর ছাড়পত্র দিল? কীভাবে মিলছে একের পর এক ট্রেড লাইসেন্স?
কড়া পদক্ষেপের হুংকার ও অবৈধ বিল্ডিং চিহ্নিতকরণ
পূর্ববর্তী সরকারের আমলকে কটাক্ষ করে পুরমন্ত্রী জানান, বিগত ১৫ বছর ধরে এই পরিকাঠামোগুলির কোনো অডিট বা নিয়মিত নজরদারি চালানো হয়নি। এমনকি হোটেলের পিছনের জরুরি এক্সিট বা প্রস্থানের জায়গাতেও জবরদস্তি অবৈধ বিল্ডিং গড়ে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটছে প্রশাসন। কেএমসি, দমকল, পুলিশ এবং পিডব্লিউডি (PWD)-র প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি যৌথ টাস্কফোর্স বা টিম গঠন করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, কলকাতা পৌরনিগম (KMC) এবং গোটা রাজ্যজুড়ে যে সমস্ত হোটেল বা গেস্ট হাউস বেআইনিভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, অন্যথায় প্রশাসন নিজের হাতে কড়া পদক্ষেপ করবে। ইতিমধ্যে এই চত্বরে এমন প্রায় ২৭টি ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ বিল্ডিং চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।