ডেটিং অ্যাপের ফাঁদে ৬৭ বছরের বৃদ্ধ! রেস্তোরাঁয় ডিনার ডেট সেরে বেরিয়েই খোয়ালেন ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা

ডেটিং অ্যাপে ভুয়া প্রোফাইল তৈরি করে ৬৭ বছরের এক প্রবীণকে ঠান্ডা মাথায় ফাঁদে ফেলার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এল। অভিযোগ, এক প্রৌঢ়ের সঙ্গে প্রেমের জাল বুনে তাঁর সঙ্গে দেখা করে মোবাইল ফোন চুরি করা হয় এবং তারপর তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। অত্যন্ত চতুর কায়দায় চালানো এই প্রতারণা চক্রের মূল পাণ্ডা দুই মহিলাকে শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। বুধবার দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এই সফল অভিযানের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম জেলার সাইবার পুলিশ স্টেশন এই অভিনব প্রতারণা ও চুরির মামলাটির সফল কিনারা করেছে। অভিযোগকারী প্রবীণ ব্যক্তি পুলিশকে জানিয়েছেন, একটি জনপ্রিয় ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে এক মহিলার সঙ্গে তাঁর ভার্চুয়াল পরিচয় হয়। এরপর তাঁদের মধ্যে টেলিগ্রাম অ্যাপে নিয়মিত কথাবার্তা চলতে থাকে। কথা বলতে বলতে একসময়ে ওই প্রৌঢ় মহিলা এবং তার এক সঙ্গীর সঙ্গে সামনাসামনি দেখা করতে সম্মত হন।

গত ২৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে নতুন দিল্লির অভিজাত ডিফেন্স কলোনির একটি বিলাসবহুল রেস্তোরাঁয় ওই দুই মহিলার সঙ্গে দেখা করে ডিনার সারেন অভিযোগকারী। কিন্তু ভোজনপর্ব শেষে রেস্তোরাঁ থেকে বেরোনোর সময়ই তাঁর পকেট থেকে রহস্যজনকভাবে মোবাইল ফোনটি উধাও হয়ে যায়। এরপর আর বাড়ি ফেরা হয়নি, বরং কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর দুটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ইউপিআই (UPI) মাধ্যমে সম্পূর্ণ তাঁর অজান্তেই ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়।

পুলিশের তদন্ত ও টাকার ট্রেইল
এই আকস্মিক প্রতারণার ঘটনায় সাইবার সেল তদন্ত শুরু করে। তদন্তের মূল লক্ষ্য ছিল খোয়া যাওয়া টাকার লেনদেনের গতিপথ বা মানি ট্রেইল (Money Trail) খুঁজে বের করা, সুবিধাভোগী ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা, হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা এবং প্রযুক্তিগত নজরদারি চালানো।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া টাকা প্রথমে এক অভিযুক্তের অ্যাকাউন্টে এবং সেখান থেকে তার সঙ্গীর অন্য একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। এর মধ্যে ৯০ হাজার টাকা একটি এটিএম কাউন্টার থেকে সরাসরি তুলে নেওয়া হয়। এরপর ডিফেন্স কলোনির রেস্তোরাঁ ও আশেপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে দুই মহিলাকে টাকা তুলতে দেখা যায়। এই সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা দুই সন্দেহভাজনকে নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হন।

কীভাবে চলত এই প্রতারণার ছক?
পুলিশি জেরার মুখে দুই অভিযুক্ত মহিলা তাদের অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। ধৃতদের মধ্যে একজনের নাম জ্যোৎস্না (২৬), সে দিল্লিরই বাসিন্দা। সে ডেটিং অ্যাপে একটি ভুক্তভোগীকে আকর্ষিত করার মতো ভুয়ো প্রোফাইল তৈরি করে ওই প্রবীণের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলেছিল। পরে সে তার অপর সঙ্গী মানসীকে (২১) এই অপরাধমূলক পরিকল্পনায় শামিল করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, মানসী নিজে ডেটিং প্রোফাইলটি সরাসরি পরিচালনা করত না, সে কেবল প্রোফাইলের আসল মুখ সেজে প্রবীণের সঙ্গে দেখা করতে যেত। এর ফলে ওই প্রৌঢ় বিন্দুমাত্র সন্দেহ না করে বিশ্বাস করতেন যে, তিনি অনলাইনে যাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন, সামনাাসামনিও তাঁর সঙ্গেই সময় কাটাচ্ছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা গত ২০ জুলাই এবং ২৪ জুলাই—এই দু’দিন অভিযোগকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিল। দ্বিতীয় দফার সাক্ষাতের দিনই ডিফেন্স কলোনির রেস্তোরাঁয় খাবারের পর অত্যন্ত কৌশলে তাঁর মোবাইল ফোনটি হাতিয়ে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে সমস্ত ডিজিটাল প্রমাণ লোপাট করার জন্য সেই ফোনটি পুরোপুরি নষ্ট করে দেওয়া হয়। অবশেষে প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে দুই মহিলাকে পাকড়াও করে আইনের আওতায় এনেছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *