হাই কোর্টে ধাক্কার পরেই সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন! আরজি করের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় কি জামিন পাবেন সন্দীপ ঘোষ?

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় জেলবন্দি থাকা প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ এবার জামিনের আর্জি নিয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন। কলকাতা হাই কোর্টে তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর, সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দেশের শীর্ষ আদালতে নতুন করে আবেদন করেছেন তিনি। আগামী সপ্তাহেই এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে, যার জেরে সন্দীপের আইনি ভবিষ্যৎ ঘিরে ফের শুরু হয়েছে জল্পনা।
কেন আটকে রয়েছে জামিন?
আরজি কর হাসপাতালের ঘটনার পরই সেখানকার প্রশাসন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করে। তদন্তভার হাতে পাওয়ার পর সিবিআই হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের দিকটিও খতিয়ে দেখতে শুরু করে এবং সেই তদন্তের ফলেই গ্রেফতার হন সন্দীপ ঘোষ।
এর আগে কলকাতা হাইকোর্টে কোনো স্বস্তি পাননি তিনি। সন্দীপের জামিনের আবেদন খারিজ করার সময় বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়টি জোরালোভাবে উঠে আসে। আদালতের স্পষ্ট অভিমত ছিল, এই মামলায় যে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের কথা বলা হয়েছে, তার সঙ্গে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবা সরাসরি জড়িত।
পাশাপাশি, সিবিআই এবং আদালতের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে এও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল যে, সন্দীপ ঘোষ একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় তিনি জেলের বাইরে এলে মামলার সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারেন। শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের পছন্দমতো সংস্থাকে বরাত দেওয়া, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটায় কারচুপির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য, আরজি কর কাণ্ডে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে সন্দীপ ঘোষের পাশাপাশি টালা থানার তৎকালীন ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকেও গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সি। পরবর্তী সময়ে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় তিনি কিছুটা আইনি স্বস্তি পেলেও আর্থিক দুর্নীতির মামলাটি তাঁর ঘাড়ে ঝুলেই রয়েছে।
আগামী সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে এই জামিন মামলার শুনানি রয়েছে। শীর্ষ আদালত এই মামলায় কী রায় দেয় এবং সন্দীপ ঘোষ আপাতত জেলেই থাকেন নাকি জামিনে মুক্তি পান, এখন সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।