বুকের ওপর দিয়ে বইছে নদী! আসানসোলে বন্যার তাণ্ডবে ছাদই এখন শেষ আশ্রয়, প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুন

প্রবল বর্ষণে আসানসোলের বুক চিরে যাওয়া গাঁড়ুই নদীর জলস্তর বিপদসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ল আসানসোলের রেলপাড়-সহ বিস্তীর্ণ এলাকা। সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই দুর্যোগে কার্যত জলমগ্ন শহর। বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন, আবার অনেকেই প্রাণের ভয়ে বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
জলের নিচে জনপদ:
সোমবার সকাল থেকে একটানা বৃষ্টির জেরে দুপুরের পর থেকেই গাঁড়ুই নদীর জল ফুলেফেঁপে উঠতে থাকে। রাতে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। রেলপাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকা একতলা সমান জলের নিচে তলিয়ে যাওয়ায় বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে রয়েছেন। আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী—সবই নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই পুরো রেলপাড় এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে অন্ধকারে মশার উপদ্রব ও জলবাহিত রোগের আশঙ্কায় দিন কাটছে মানুষজনের।
উদ্ধারকাজ ও জনপ্রতিনিধিদের তৎপরতা:
উত্তর আসানসোলের চারটি ওয়ার্ড এখন মূল শহর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। যোগাযোগকারী সেতুগুলি ভেসে গেছে এবং রাস্তাঘাট জলের তলায়। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন, পুরনিগম, বিপর্যয় মোকাবিলা দল, পুলিশ ও দমকল উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। বহু মানুষকে স্থানীয় ধর্মশালা ও স্কুলে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রাক্তন কাউন্সিলর গৌরব গুপ্ত জানান, সকাল থেকেই আটকে থাকা মানুষদের জন্য দুধ, পাউরুটি ও শিশুদের খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিধায়কের প্রতিনিধি দলও এলাকা পরিদর্শন করে ত্রাণ বিতরণ করছে।
প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভের পাহাড়:
উদ্ধারকাজ চললেও স্থানীয়দের একাংশের গলায় আক্ষেপ ও ক্ষোভের সুর। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভোটের সময় নেতা-মন্ত্রীদের দেখা মিললেও বিপদের দিনে কাউকেই পাশে পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘদিনের জলমগ্ন হওয়ার সমস্যা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন, “প্রতিবছরই কি এই ছবি দেখতে হবে?”
বাসিন্দাদের দাবি, গাঁড়ুই নদীর গতিপথ দখল করে বহু অবৈধ নির্মাণ গড়ে উঠেছে। এছাড়া নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই এই প্লাবন সৃষ্টি হয়। কয়েক বছর আগে পুরনিগমের তৈরি করা ‘মাস্টার প্ল্যান’ যে পুরোপুরি কার্যকর হয়নি, তা এই দুর্যোগেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
পুরনিগমের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন তৎপর। খুব দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে নদীর সংস্কার ও দখলমুক্ত না করা পর্যন্ত আসানসোলের বাসিন্দাদের এই আতঙ্ক থেকে মুক্তির পথ কোথায়, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।