পুজোর আগে পদ্মার ইলিশ আসছে? বাণিজ্যের পাশাপাশি কি মিলল সুসংবাদ?

ভারত ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের বর্তমান আবহে প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে আসরে নামল ব্যবসায়িক মহল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না হলেও, দুই দেশের বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব বাড়াতে সোমবার তিনদিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছেছে ভারতের শীর্ষ শিল্প-বাণিজ্য সংগঠন কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি বা সিআইআই-এর (CII) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

সিআইআই-এর মেগা প্রতিনিধিদল এখন ঢাকায়

সিআইআই-এর মহাপরিচালক চন্দ্রজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে ভারতের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের ১৪ জন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতা রয়েছেন। প্রতিনিধিদলে ভারত বায়োটেক, ইনফ্রাভিশন ফাউন্ডেশন, গোদরেজ ইন্ডাস্ট্রিজ, অরবিন্দ লিমিটেড, এলএমডব্লিউ গ্লোবাল, মাহিন্দ্রা গ্রুপ, লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি), ফোর্বস মার্শাল, নুমালিগড় রিফাইনারি, অ্যাপোলো হাসপাতাল ও ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।

জানা গেছে, এই সফরে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক বাধা দূর করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা চলছে। ইতিমধ্যেই ভারতীয় প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, বিদেশ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং এফবিসিসিআই ও বিডা (BIDA)-র প্রতিনিধিদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।

পুজোয় কি মিলবে পদ্মার ইলিশ?

বাণিজ্যিক আলোচনার পাশাপাশি এই সফরে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে বাঙালির আবেগের বিষয়—পদ্মাপাচারের ইলিশ। প্রতি বছর দুর্গাপুজোর আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ আসার ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেও সেই ধারা বজায় রাখার বিষয়ে আশাবাদী ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। গত বছর নানা রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় পদ্মার ইলিশ এসে পৌঁছেছিল।

এবারের পুজোয় যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে এবং সময়ের আগেই ভারতীয় বাজারে পদ্মার ইলিশ আমদানি করা যায়, সেই উদ্দেশ্যে ভারতের আমদানিকারক প্রতিনিধিদল ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ দ্বিবেদী এবং বাংলাদেশের বাণিজ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠক করছেন। ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেছেন, চলতি সপ্তাহের এই বৈঠকের পরই পুজোয় ইলিশ রফতানি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনকে পেছনে ফেলে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থেই এই ঢাকাসফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *