২০৩০-এর আগেই কি পোরশে টেকোন তৈরি বন্ধ হয়ে যাবে? মারমার কাটাকাটি বিক্রির পরেই বড় জল্পনা!

বিলাসবহুল স্পোর্টস কার প্রেমীদের জন্য বড় ধাক্কা আসতে চলেছে। জার্মানির বিখ্যাত বিজনেস ম্যাগাজিন ‘উইর্তশাফটসভখে’ (WirtschaftsWoche)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পোরশে তাদের জনপ্রিয় অল-ইলেকট্রিক সেডান ‘টেকোন’ (Taycan) ২০৩০ সালের মধ্যে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে, ২০২৭ সালের মডেল বাজারে আসার ঘোষণা দেওয়ার মাত্র কয়েক মাস পরেই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল।
বিক্রিতে বড় ধস এবং উৎপাদন স্থগিত
২০১৯ সালে বাজারে আসার পর থেকেই গাড়িপ্রেমীদের নজর কেড়েছিল পোরশেই প্রথম এই ইলেকট্রিক ভেহিকল। ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে এই মডেলটির রেকর্ড ৪০,৯৬০টি ইউনিট বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু এরপরই চিত্রটা দ্রুত বদলাতে শুরু করে। ২০২৫ সালে বিক্রি সোজা ৬০ শতাংশ কমে মাত্র ১৬,৩৩৯টিতে নেমে আসে। ইউকে অটোকার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাহিদার এমন করুণ দশার কারণে পোরশেকে অতীতে বেশ কয়েকবার এই গাড়ির উৎপাদন সাময়িকভাবে থামিয়ে রাখতে হয়েছিল। জার্মান ম্যাগাজিনের রিপোর্ট সত্যি হলে, উৎপাদন ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার পাশাপাশি তা একেবারে বন্ধ করে দেওয়ার কথাও ভাবা হয়েছিল।
পোরশের অন্দরমহলের সিদ্ধান্ত কী?
জার্মান এই অটোমোবাইল ব্র্যান্ড এখনও বিষয়টি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা অনুমোদন দেয়নি। তবে ভেতরের খবর বলছে, পোরশের এক্সিকিউটিভ বোর্ড এবং জেনারেল ওয়ার্কস কাউন্সিলের মধ্যে এই ইলেকট্রিক সেডানটির উৎপাদন ধীরে ধীরে গুটিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে। যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তবে মডেলটির জীবনচক্র শেষ না হওয়া পর্যন্ত জার্মানির স্টুটগার্ট প্লান্টেই এর উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া হতে পারে।
এর আগে পোরশের প্রধান নির্বাহী মাইকেল লেইটার্স এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছিলেন যে, এই মুহূর্তে টেকোন বন্ধ করার কোনো তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা তাদের নেই। কারণ হিসেবে তিনি গাড়িটিতে বিশাল পরিমাণ বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করে গ্রাহকদের চাহিদা কেমন থাকে তা পর্যবেক্ষণ করতে চেয়েছিলেন।
পোরশের পরবর্তী পরিকল্পনা কী?
টেকোন যুগের অবসান ঘটলেও হাই-পারফরম্যান্স ইলেকট্রিক সেডানের বাজার ছাড়ছে না পোরশে। গুঞ্জন রয়েছে, প্যানামেরা (Panamera) পরিবারের সঙ্গেই এই মডেলের উত্তরসূরিকে যুক্ত করা হতে পারে, যা ব্র্যান্ডের দুটি জনপ্রিয় মডেলকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসতে সাহায্য করবে।
এছাড়া লাইপৎসিশ (Leipzig) প্লান্টে টেকোনের উত্তরসূরি তৈরির বিকল্প নিয়ে ও চলছে আলোচনা। এই প্লান্টটি পেট্রোল, প্লাগ-ইন হাইব্রিড এবং ইলেকট্রিক—সব ধরনের গাড়ি তৈরির ক্ষমতা রাখে। উৎপাদন খরচ কমাতে এবং অর্থনৈতিক সুফল পেতে ভবিষ্যত প্রজন্মের এই ইলেকট্রিক সেডানটিকে লাইপৎসিশে স্থানান্তরের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও নতুন এই ভবিষ্যৎ ইলেকট্রিক গাড়িটি নিয়ে পোরশে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো মুখ খোলেটি, তবে তাদের হাই-পারফরম্যান্স ইভি কৌশলে এটি যে বড় ভূমিকা রাখবে তা বলাই বাহুল্য।