‘আমায় শান্তিতে মরতে দাও…!’ মৃত্যুর ঠিক আগের মুহূর্তে দিদির কাছে কী মেসেজ পাঠিয়েছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী?

মৃত্যুর ঠিক কয়েক মিনিট আগে ননদকে পাঠানো শেষ খুদেবার্তাটি এখন তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। গত ১২ মে মারা যান ৩৪ বছর বয়সি অভিনেত্রী তৃষা শর্মা। মৃত্যুর আগে তিনি তাঁর ননদকে শেষ মেসেজে লিখেছিলেন, “ওকে বল ওর স্ত্রীর অবশিষ্টাংশ নিয়ে নিতে। তবে কালকে। আমাকে এখন শান্তিতে মরতে দাও।” তৃষার এই শেষ টেক্সট মেসেজটি এখন সিবিআই-এর (CBI) পেশ করা চার্জশিটের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
ভোপাল আদালতে পেশ করা এই চার্জশিটে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা অভিযুক্ত হিসেবে নাম তুলেছে তৃষার স্বামী সমর্থ সিং এবং তাঁর শাশুড়ি গিরিবালা সিংয়ের (যিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক)। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ৮৫, ১০৮ এবং ৩(৫) ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া এবং যৌথভাবে অপরাধ সংঘটিত করার অভিযোগ এনেছে সিবিআই। সংস্থার দাবি, মাত্র ছ’মাসের বিবাহিত জীবনে চরম মানসিক ও শারীরিক অত্যাচারের শিকার হতে হয়েছিল তৃষাকে।
ঠিক কী ঘটেছিল সেই মর্মান্তিক সন্ধ্যায়?
কল রেকর্ড এবং বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ঘটনার একটি টাইমলাইন তৈরি করেছে তদন্তকারীরা:
সন্ধ্যা ৭টা ৫১ মিনিট: ননদকে ফোন করে তৃষা জানান যে, তাঁর নিজস্ব কুড়ি লক্ষ টাকা চিনা শেয়ারে (Chinese stocks) বিনিয়োগ করার জন্য চাপ দিচ্ছেন স্বামী সমর্থ। তৃষা তাতে রাজি না হওয়ায় দুই পরিবারের মধ্যে শুরু হয় দফায় দফায় ফোন ও মিসড কলের পালা।
রাত ৯টা ২০ মিনিট: কন্নড় কান্নায় ভেঙে পড়ে ফের ফোন করেন তৃষা। পিঠে ব্যথার কারণে তিনি সমর্থকে অন্য ঘরে শুতে বলায় স্বামী চরম হিংস্র আচরণ শুরু করেন এবং আচমকাই ফোন কেটে যায়।
রাত ৯টা ৩৬ মিনিট: ননদকে সেই শেষ টেক্সট মেসেজ পাঠান তৃষা।
রাত ৯টা ৪০ মিনিট: বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা যায়, তৃষা একাই ছাদের দিকে হেঁটে যাচ্ছেন।
রাত ৯টা ৪1 মিনিট থেকে ১০টা ৫ মিনিট: কাঁদতে কাঁদতে বাবা-মাকে ফোন করে তৃষা জানান যে সমর্থ অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও হিংস্র হয়ে উঠেছেন। তিনি অবিলম্বে তাঁদের ভোপালে চলে আসার অনুরোধ করেন।
রাত ১০টা ২৩ মিনিট: সমর্থ এবং তাঁর মা ছাদে গিয়ে দেখেন জিম বেল্ট দিয়ে ঝুলছেন তৃষা। দ্রুত তাঁকে এইমস-ভোপালে (AIIMS-Bhopal) নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও আদালতের জলঘোলা
প্রথম ময়নাতদন্ত নিয়ে তৃষার পরিবার সন্দেহ প্রকাশ করায় দিল্লির এইমস-এর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দিয়ে পুনরায় দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত করানো হয়। সেই রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ হিসেবে আত্মহত্যাই নিশ্চিত করা হয়েছে। চার্জশিটে বলা হয়েছে, গলায় ফাঁসের ফলেই অ্যাসফ্লাক্সিয়া (asphyxia) বা শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে। জিম করার বেল্ট দিয়েই ওই কাণ্ড ঘটানো হয়েছিল এবং মৃত্যুর আগে ধস্তাধস্তির কোনো চিহ্ন শরীরে পাওয়া যায়নি।
তৃষার পরিবার অবশ্য প্রথম থেকেই এটিকে পরিকল্পিত খুন বলে দাবি করে আসছে। সিবিআই-এর প্রাথমিক রিপোর্টের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবাদী আর্জি (protest petition) দাখিল করার কথাও ভাবছেন তাদের আইনজীবী অঙ্কুর পাণ্ডে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী এনোশ জর্জ কার্লো দাবি করেছেন যে, চার্জশিটে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আর্থিক extortion বা জোর করে টাকা আদায়ের কোনো প্রমাণ মেলেনি। বর্তমানে মোবাইল ও সিসিটিভি-র ডিজিটাল ডেটা উদ্ধারের কাজ চলছে বলে আদালতকে জানিয়েছে সিবিআই।