পৈতৃক জমি না ফেরানোয় ইলেকট্রিক শক দিয়ে স্ত্রীকে খুন! নৃশংসতার চূড়ান্ত নজির রামপুরে

পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় স্ত্রীকে নৃশংসভাবে ইলেকট্রিক শক দিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। উত্তরপ্রদেশের রামপুরে এই অমানবিক ও বীভৎস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম নাসরিন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী ইসরারকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ময়নাতদন্তের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার তদন্তে নেমে নাসরিনের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখে পুলিশ আধিকারিকরাও শিউরে উঠেছেন। রামপুরের অ্যাডিশনাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট অব পুলিশ অনুরাগ সিং জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে নাসরিনের শরীরের অন্তত ছয়টি স্থানে মারাত্মক আঘাত এবং ইলেকট্রিক শকের ফলে গোপনাঙ্গসহ বিভিন্ন জায়গায় পুড়ে যাওয়ার ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট।

জমি বিবাদের জেরে খুন
পুলিশি জেরায় নিজের দোষ কবুল করেছে ঘাতক স্বামী ইসরার। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, নাসরিনের বাপের বাড়ির একটি জমি বিক্রি করা নিয়ে দম্পতির মধ্যে বেশ কিছু দিন ধরেই তীব্র অশান্তি চলছিল। কিন্তু নাসরিন জমিটি বিক্রি করতে স্পষ্ট বারণ করেছিলেন। তাঁর যুক্তি ছিল, জমি বিক্রি করে দিলে তাঁদের পাঁচ সন্তানের (চার মেয়ে ও এক ছেলে) ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। প্রায় ১৩ বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল।

নাসরিনের পরিবারের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিবাদের জেরে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে মারধর করা হচ্ছিল। এমনকি, দাবি না মানলে স্ত্রীকে খুন করে ফেলার হুমকিও দিত ইসরার। নাসরিনের বোন হাসিন জাহান জানান, কিছুদিন আগে নাসরিনের মুখে আঘাতের চিহ্ন দেখা গিয়েছিল, কিন্তু পরিবারের চাপে বা পরিস্থিতির ভয়ে তিনি তখন আসল ঘটনা খুলে বলেননি।

নাসরিনের কাকার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত ইসরারসহ তার পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করেছে। সম্পত্তি লোভে কীভাবে এক স্বামী নিজের স্ত্রীর ওপর এমন পৈশাচিক নির্যাতন চালাতে পারেন, তা ভেবেই স্তম্ভিত এলাকাবাসী। ঘটনায় পুলিশ আরও বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *