জাতিগত আদমশুমারি নিয়ে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ কংগ্রেসের! নেপথ্যে কোন বড় রহস্য?

জাতিগত আদমশুমারি (Caste Census) এবং সামাজিক ন্যায়বিচার ইস্যুতে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও শানাল প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে সরাসরি অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, বর্তমান কেন্দ্র সরকার সুকৌশলে জাতিগত আদমশুমারির প্রক্রিয়াকে বানচাল বা বন্ধ করতে চাইছে। একইসঙ্গে ২০২১ সালের সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা কেন্দ্রীয় সরকারের একটি হলফনামা ও বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যে অসঙ্গতি তুলে ধরে জোরদার রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে হাত শিবির।
কংগ্রেসের মূল অভিযোগ ও প্রশ্ন
কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক ও যোগাযোগ দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা জয়রাম রমেশ সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট শেয়ার করে দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ইস্যুতে দফায় দফায় অবস্থান বদল করছেন। তাঁর কটাক্ষ, প্রধানমন্ত্রী অতীতে এই ধারণার তীব্র সমালোচনা করলেও পরবর্তীতে অবস্থান পরিবর্তন করেন, কিন্তু বর্তমানে তিনি আবারও সেই অবস্থান থেকে সরে এসে ইউ-টার্ন নিচ্ছেন।
কংগ্রেসের প্রধান প্রশ্নটি জড়িয়ে রয়েছে ২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা কেন্দ্রের একটি হলফনামার সঙ্গে। দলটির দাবি, ওই হলফনামার ১২(ঘ) অনুচ্ছেদে স্বয়ং কেন্দ্র সরকার জানিয়েছিল যে—২০১১ সালের আদমশুমারির আগে কোনো নির্দিষ্ট জাতি তালিকা প্রস্তুত করা হয়নি এবং জাতি তালিকায় তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি ‘ড্রপ-ডাউন মেনু’ থাকলে তা নির্ভরযোগ্য ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য প্রদান করতে পারত। কংগ্রেসের বক্তব্য, সরকার নিজেই অতীতে যেখানে এই ধরনের একটি কার্যকরী ব্যবস্থার কথা স্বীকার করেছিল, তবে এখন আসন্ন আদমশুমারির ফর্ম বা প্রক্রিয়ায় সেই ড্রপ-ডাউন মেনু অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না কেন?
অতীতেও একাধিক চিঠি ও প্রস্তাব
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এর আগে দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে গত বছরের ৫ মে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি লিখে একই ধরনের ড্রপ-ডাউন মেনু যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। দলটির দাবি, বিহার কিংবা তেলেঙ্গানার মতো রাজ্যে জাতিগত সমীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই এই ধরনের কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়েছিল। অথচ কেন্দ্রের তরফে সেই পথে হাঁটা হচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, বিরোধী শিবির দাবি করছে যে, সরকারের এই গড়িমসি এবং সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের অভাবই প্রমাণ করে যে তারা নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ জাতিগত গণনা এড়াতে চাইছে। এই ইস্যুতে আগামী দিনে সংসদ থেকে রাজপথ—রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।