মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও কাটার চেষ্টা করেছিলেন টিকিট! অভিনেত্রী ত্বিষা শর্মা মৃত্যুর তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য সিবিআইয়ের চার্জশিটে

মাস কয়েক আগের ঘটনা। জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও ‘মিস পুনে’ খেতাবজয়ী ত্বিষা শর্মার আকস্মিক মৃত্যুতে গোটা বিনোদন দুনিয়ায় তোলপাড় পড়েছিল। অভিনেত্রীর সেই ঝাঁ-চকচকে জীবনের আড়ালের অন্ধকার দিকটি এবার ক্রমেই সামনে আসতে শুরু করেছে। সিবিআইয়ের তদন্তে প্রকাশিত হয়েছে ত্বিষার বিবাহিত জীবনের চরম যন্ত্রণার অধ্যায়গুলি। এবার চাঞ্চল্যকর এই মৃত্যুর ঘটনায় অভিনেত্রীর স্বামী সমর্থ সিং এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারক তথা শাশুড়ি গিরিবালা সিংয়ের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI)। সিবিআইয়ের জমা দেওয়া ৩১ পাতার চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, মাত্র ছয় মাসের দাম্পত্য জীবনে ত্বিষাকে এক অসহ্যকর মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতনের মধ্যে থাকতে হয়েছিল।
শেষ রাতের রোমহর্ষক বিবরণ ও সিবিআইয়ের চার্জশিট
সিবিআইয়ের দাখিল করা ৩১ পাতার ওই চার্জশিটে মৃত্যুর আগের প্রতি মিনিটের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও বাড়ি ছেড়ে বাপের বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য ট্রেনের টিকিট পর্যন্ত বুক করেছিলেন অভিনেত্রী। কিন্তু সেই রাতেই ঘটে যায় মর্মান্তিক পরিণতি।
সিবিআই চার্জশিট অনুযায়ী, মৃত্যুর আগের শেষ কয়েক ঘণ্টায় ঠিক কী ঘটেছিল:
রাত ৯টা ৩৬ মিনিট: ত্বিষা তাঁর ননদকে একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পাঠান। সেখানে তিনি স্বামীকে পরের দিন তাঁর মৃতদেহের অবশিষ্টাংশ সংগ্রহ করতে বলার কথা জানান এবং লেখেন যে তিনি এই মুহূর্তে শান্তিতে মরতে চান।
রাত ৯টা ৪০ মিনিট: সিসিটিভি ফুটেজে তাঁকে একাই সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে দেখা যায়, যাঁর গন্তব্য ছিল ছাদের দিকে।
রাত ৯টা ৪১ মিনিট: বাবাকে ফোন করে কান্নায় ভেঙে পড়েন অভিনেত্রী। তিনি জানান, তাঁর স্বামী সমর্থ অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও হিংস্র আচরণ করছেন এবং তিনি ভীষণ ভয় পাচ্ছেন। বাবা-মাকে দ্রুত তাঁর কাছে চলে আসার অনুরোধও করেন তিনি।
রাত ১০টা ৫ মিনিট: মাকে ফোন করে স্বামীর দুর্ব্যবহারের কথা জানানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই ফোন কেটে যায়।
রাত ১০টা ২৩ মিনিট: সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, স্বামী সমর্থ সিং এবং তাঁর মা গিরিবালা সিং ছাদের দিকে যাচ্ছেন। এরপরই ত্বিষাকে নিচে নামিয়ে এনে দ্রুত এইমস্ ভোপাল (AIIMS Bhopal)-এ নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
কীভাবে শুরু হয়েছিল এই সম্পর্কের পরিণতি?
অভিনয় জগত ছাড়াও কর্পোরেট ক্ষেত্রে কাজ করা ত্বিষার সঙ্গে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি অনলাইন ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে সমর্থ সিংয়ের পরিচয় হয়। এরপর দীর্ঘ সম্পর্কের পর একই বছরের ৯ ডিসেম্বর তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু সিবিআইয়ের চার্জশিটে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বিয়ের পর থেকেই সমর্থ তাঁকে বারবার মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন, অবমাননাকর ভাষায় কথা বলতেন এবং তাঁর চরিত্র নিয়েও নানা প্রশ্ন তুলতেন। সবচেয়ে বড় কথা, স্বামীর এই সমস্ত আচরণের কথা শাশুড়ি গিরিবালা সিংয়ের কাছে গিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি অভিনেত্রী, বরং শাশুড়ি ছেলের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছিলেন।
ফলস্বরূপ, দীর্ঘদিনের এই ধারাবাহিক মানসিক চাপ ও অত্যাচারে অভিনেত্রী তীব্র অবসাদে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে তদন্ত এখানেই শেষ নয়। সিবিআই জানিয়েছে, দম্পতির মোবাইল ফোন থেকে সম্পূর্ণ ফরেনসিক ডেটা উদ্ধার এবং ভোপালে গিরিবালা সিংয়ের বাড়ির সিসিটিভি ডিভিআর (CCTV DVR)-এর সম্পূর্ণ ফরেনসিক এক্সট্রাকশনের কাজ এখনও বাকি রয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর মামলায় আগামী দিনে আরও কী তথ্য সামনে আসে, এখন সেটাই দেখার।